এ সময়ের টিন ট্রেন্ড

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৪৪

তারুণ্য মানেই দুরন্ত বেগে ছুটে চলার সময়। যার রেশ থেকে যায় সারা জীবন। গতিময়তা এ সময় থেকেই শুরু। রক্তে দারুণ তারুণ্য নিয়ে দিন কাটে যাদের, তাদের পোশাক-আশাক নিয়ে আলাদা করে ভাবনা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কারণ নিয়ম ভাঙার বয়স তো এটাই।

ফ্যাশন বাজার ঘুরে দেখা গেল, টপসের প্যাটার্নে ভিন্নতা। অলঙ্করণ নয়, প্রাধান্য পেয়েছে পোশাকের কাটিং। আর বটমে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করা হয়েছে রং ও প্রিন্টের মাধ্যমে। দু ধরনের পোশাকেই ফেব্রিক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে সর্বাধিক গুরুত্ব। টপস বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রেন্ডি কাটের পোশাক মানিয়ে যাবে বেশ। রঙের ক্ষেত্রেও নজর রাখুন। টপস ও বটম পরুন বিপরীত রঙের। পোশাকের রং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সকলেই এটি কমবেশি জানি যে, গাঢ় রং তাপ শুষে নেয় এবং ভারী ধরনের হয়। ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে গাঢ় রঙের প্রাধান্য দেখতে পাই আমরা। কিন্তু গরমের সময় রং যত হালকা হবে, তত বেশি আরাম পাওয়া যাবে। হালকা বলতে যে আবার কেবল সাদাই, তা নয়। কালো বা কালচের কাছাকাছি যায় এমন ধরনের রঙের পোশাক এড়িয়ে যাবেন। অফ হোয়াইট, ঘিয়া, হালকা সবুজ, হালকা নীল, বেগুনি এমন ধরনের রঙের পোশাক পরতে পারেন। প্যান্টের ক্ষেত্রে আবার বাইরে ধুলাবালি বেশি থাকে বিধায় হালকা রং এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। এর বদলে গাঢ় ধূসর, হালকা ধূসর, অফ হোয়াইট, বাদামি বা বিস্কুট রং বেছে নিতে পারেন। শার্টের সঙ্গে মিলিয়ে অন্য রঙেরও পরতে পারেন। কুর্তির ক্ষেত্রে লেন্থে একটু তারতম্য আছে। কোনোটি ফুল লেন্থের, আবার কোনোটি শর্ট লেন্থের। মিডিয়াম প্যাটার্নের আছে কিছু, কিছু অনেকটা গাউন স্টাইলে বানানো হয়েছে। কতগুলো আবার পাঞ্জাবি কাটে বানানো হয়েছে। কতগুলোতে আবার আলাদা করে কটি দেওয়া হয়েছে।

টপসের ক্ষেত্রে কোনোটা কোট প্যাটার্ন, কোনোটা শার্ট আবার কোনোটা ক্রপ টপ স্টাইলে বানানো হয়েছে। রঙের ক্ষেত্রে হালকার পাশাপাশি গাঢ় রঙও ব্যবহার করা হয়েছে।

মোটিফের ক্ষেত্রে ফ্লাওয়ার, ট্রাইবাল আর জিওমেট্রি প্রাধান্য পেয়েছে। এ বাদেও ডিজাইনগুলো করা হয়েছে এমব্রয়ডারি, মেশিন এমব্রয়ডারি, কারচুপি ইত্যাদিতে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্যাটার্নে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সালোয়ার-কামিজের ক্ষেত্রে যেমন ম্যাচিংয়ের ব্যাপার থাকে। অনেক সময়ে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হয় না। সেইদিক দিক দিয়ে কুর্তি অনেকটাই ঝামেলামুক্ত। পছন্দসই লেগিংস বা প্যান্টের সঙ্গে অনায়াসে পরা যায়। আবার গরমে আরাম পেতে চাইলে পালাজ্জোর সঙ্গে পরলেও দেখতে বেশ ট্রেন্ডি লাগে। সঙ্গে নিতে পারেন ছোট ওড়না বা স্কার্ফ।

বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে সাধ্যের মধ্যেই পেয়ে যাবেন কুর্তি কিংবা টপস। দামগুলো হাতের নাগালে থাকায় মেয়েদের মাঝে এখন সালোয়ার কামিজের চেয়ে আলাদা গুরুত্ব আর কদর পাচ্ছে কুর্তি বা টপস। সঙ্গে ম্যাচিং করে লেগিংস বা আনুষঙ্গিক জিনিসও কিনে নিতে পারেন। কুর্তির সঙ্গে ছিমছাম সাজে সাজিয়ে নিতে পারেন নিজেকে। অথবা বিকেলে বন্ধু কিংবা পরিবারের সকলের সঙ্গে মিলে বেরিয়ে আসতে পারেন কোথাও থেকে।    

টপ যদি হয় বেশ রঙিন এবং নানা ধরনের ছাপা সম্বলিত, তাহলে বটম এক রঙা হলে এক ধরনের ছন্দ তৈরি হবে। একইভাবে যদি টপ হয় এক রঙা, তাহলে বেছে নিতে পারেন ছাপা অথবা জ্যামিতিক নকশার কাপড়ের বটম। ফেব্রিকে এখন আরামদায়কতা ও স্বাছন্দ্য রয়েছে গুরুত্বের তালিকার উপরের দিকে। টপ ও বটম দু ক্ষেত্রেই এমন ধরনের ফেব্রিক বেছে নিন, যা কোনো ধরনের অস্বস্তি তৈরি করবে না আপনার নিত্য দিনের চলাফেরাতে। যেহেতু দৌড়ঝাঁপের এ বয়সে যখন তখন বেরিয়ে পরা হয় অজানার উদ্দেশ্য, তাই পোশাক ও জুতা দুই-ই হতে হবে স্বস্তির। কেমন হতে পারে এ ধরনের পোশাকের সঙ্গে সাজ, সে প্রশ্নে রূপ বিশেষজ্ঞ সোনিয়া খান বলেন, ‘টপসের সঙ্গে মেকআপ হতে হবে ন্যাচারাল। হালকা মেকআপে সেজে নিতে হবে। চোখে পড়তে পারেন মাশকারা। ঠোঁটে থাকতে পারে হালকা লিপস্টিক। চুল বাঁধতে পারেন নানাভাবে। করতে পারেন নিরীক্ষা। তেমনভাবে গয়না না পরাই ভালো এমন পোশাক ও জুতার সঙ্গে। পরতে চাইলে কানে ছোট্ট দুল পরতে পারেন, গলায় থাকতে পারে সরু চেইন। হাতে ব্রেসলেট এবং ঘড়ি হতে পারে বেশ ভালো অনুষঙ্গ।’

মডেল         অনামিকা

মেকআপ      সোনিয়া খান

পোশাক       গ্রামীণ ইউনিক্লো

ছবি            রনি বাউল