গহনা হলো একটি মেয়ের ব্যক্তিত্ব উপস্থাপনের মেইন ফোকাস। তাই আপনার বয়স, পরিবেশের অবস্থা অর্থাত্ আপনি যে কাজে বেরুচ্ছেন ইত্যাদি বিবেচনা করে পোশাক ও গহনা নির্বাচন করুন। কোন পোশাকের সাথে কী গহনা পরতে পারেন তা নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন নওশীন শর্মিলী
সালোয়ার-কামিজ
হঠাত্ করে খুব দ্রুত কাজে যেতে হলে যে পোশাকটি মেয়েরা বেশি উপযোগী মনে করে। তা হলো সালোয়ার কামিজ। এটি সহজে পরিধেয় এবং শালীনও বটে। সালোয়ার কামিজের সাথে যে কোনো গহনাই মানানসই।
যেমন-
l কামিজের সাথে ম্যাচিং কালারের মালা পরতে পারেন।
l কাঠের বা পুথির মালা বেশ মানানসই। তবে গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারির দোকানে বিভিন্ন ধরনের পাথরের মালা পাওয়া যায়। এগুলোও পরতে পারেন।
l গলায় একটু গর্জিয়াস মালা পরলে কানে আর কিছু না পরাই ভালো। শুধু কানে পরলে একটু লম্বাটানের দুল পরতে পারেন।
l শেলের কানের দুল বা মালাও বেশ আকর্ষণীয়। তবে তা পোশাকের উপর নির্ভর করে। সালোয়ার কামিজের সাথে জবরজং কোনো গহনা না পরাই ভালো। হালকা গহনা পরুন।
l হাতে দিতে পারেন চিকন ব্রেসলেট। তবে কোনো কোনো সময় চুড়িও পরতে পারেন। তবে তা ৩/৪ টার বেশি নয়। এখন বাজারে নানা টাইপের চুড়ি পাওয়া যায়। প্লাস্টিকের, কাঠের বা লেসের চুড়ি বেশ চলে। এগুলোর ২/১টা হাতে পরে নিতে পারেন।
l কখনও কখনও চেইন লকেট পরতে পারেন। হাতের আঙ্গুলে পরতে পারেন
একটা-দুটা আংটি।
টিপস
সহজ পোশাক ও গহনার সাথে আপনার সাজটিও হওয়া চাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। হালকা মেক-আপ নিন। এমনিতেও রোজ বাইরে বের হলে অতিরিক্ত মেক-আপ না নেয়াই ভালো। চোখে ভারি করে কাজল দিতে পারেন। চোখটাকেই হাইলাইট করতে পারেন। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক বা লিপগ্লস লাগাতে পারেন। গালে হালকা ব্লাশন দিতে পারেন। মনে রাখবেন, ত্বক যেন সবসময় ঝরঝরে থাকে।
l সাজ-পোশাক ও গহনার সাথে হাতের ব্যাগটি এমন যেন না হয়, যাতে পুরো মেকওভার ফিকে হয়ে যায়। তাই ব্যাগটিও হওয়া চাই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
l সবশেষে পুরো উপস্থাপনকে পূর্ণতা দিতে বেছে নিন আপনার পছন্দের জুতা জোড়া। মনে রাখবেন আপনার সাজের সাথে জুতা যেন অবশ্যই মানানসই হয়।
জিন্স-ফতুয়া
টিন-এজ মেয়েরা জিন্স, টপস বা ফতুয়া পরতে বেশি পছন্দ করে। ফতুয়া যদি হয় আমাদের দেশীয় স্টাইলের তাহলে তার সাথে মাটি, কাঠ বা পুথির মালা পরতে পারেন। আর ফতুয়া যদি হয় ইন্ডিয়ান স্টাইলের অর্থাত্ কুর্তি টাইপের; তাহলে তার সাথে কানে বড় দুটো কানের দুল পরতে পারেন। দেশিভাবের ফতুয়ার সাথে মালা এবং হাতে মোটা কাঠের দু-তিনটা বালা পরতে পারেন। তা যেন অবশ্যই পোশাকের রং-এর সাথে মিল থাকে।
জিন্স-টপস্
টপসে্র সাথে দু’তিন লহরের মালা পরতে পারেন। মালাটা শেলের হলেও ভালো লাগবে। টপসের সাথে মেটালের চেইনও পরতে পারেন। হাতে ব্রেসলেট দিতে পারেন। আবার কোনো ক্ষেত্রে লম্বা চেইন ও লকেট পরতে পারেন। তবে গলায় পরলে কানে না পরাই ভাল। কানে বড় রিং পরতে পারেন। হাতে ঘড়ি পরলে ভালো লাগবে।
স্কার্ট-টপস
স্কাট টপসের সাথে কানে পরুন বড় কোনো দুল। গলায় ও কানে ছোট সেটও পরতে পারেন। স্কার্টের সাথে কোমরে পরতে পারেন চেইন বা ফ্যান্সি বেল্ট। হাতে পরুন ম্যাচিং ব্রেসলেট। চুলগুলোকে যদি সামনে দিয়ে ঠেলে একটা ব্যান্ড দিতে পারেন। চমত্কার লাগবে। বাজারে নানাজাতের পাথরের ব্যান্ড পাওয়া যায়। এগুলো টিন-এজ মেয়েদের খুব মানিয়ে যায়।
টিপস
গহনা যেন হয় সময় উপযোগী। এমন কোনো গহনা পরবেন না যেটা আপনার পোশাকের সাথে মানানসই নয়। আর রঙ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাবধানী হয়ে উঠুন। আপনার ভুল নির্বাচন পোশাকের উজ্জ্বলতাকে নষ্ট করে দিতে পারে। এমনকি আপনার স্বাভাবিক সৌন্দর্যকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। ভেবে চিন্তে নির্বাচন করুন পছন্দের গহনাটি। এখানেই আপনার স্টাইল আর ফ্যাশনের চূড়ান্ত পরিচয়।
শাড়ি
আমাদের প্রায়শই এমন পরিস্থিতিতে পরতে হয় যখন আর শাড়ি না পরলেই নয়। শাড়িতে নারীদের চেহারায় আসে শতভাগ বাঙালিয়ানা। শাড়ির সাথে গহনাও হওয়া চাই তেমনটাই। এখানে ট্রেন্ডি গহনার উপর নির্ভর করা যায় খুব সহজেই। তবে মেচিং আর হালকা গহনাকে নির্বাচন করা যুক্তিসঙ্গত হবে। এছাড়াও শাড়ির ঝটপট গহনার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ব্যাকরণ মানা যেতে পারে। আসুন তবে জেনে নিই শাড়ির সঙ্গে কোন ধরনের গহনা মানানসই হয় —
l শাড়ির সাথে বেশ মানানসই গহনা হলো পার্লের মালা। দু-তিন লহরের ডিপ অ্যাশ রংয়ের মালা যে কোনো রংয়ের শাড়ির সাথে মানানসই। তবে সাদা মুক্তার মালাও খুব চলে।
l রুবি বা পান্নার মালাও শাড়ির সাথে বেশ ভালো যায়। গলায় মালা পরলে কানের দুলটা ছোট হতে হয়। টপ পরলে ভালো লাগবে। এক পাথরের কানের দুল শাড়ির সাথে ভালো মানায়।
l চেইন ও লকেট এবং লকেটের সাথে মিল রেখে ছোট কানের দুল সাথে আংটি; শাড়ির সাথে বেশ মানিয়ে যায়।
l বুটিক হাউজগুলোতে শাড়ির সাথে ম্যাচিং করা সেট পাওয়া যায়। এগুলো তামা, রুপা ও কাঠের তৈরি। এগুলো শাড়ির সাথে বেশ ভালো লাগে।
l শাড়ির সাথে চুড়ি অবশ্যই মানাবে। দুই হাতে দুইটা চুড়ি বা এক হাতে চুড়ি অন্য হাতে ঘড়িও পরতে পারেন। মনে রাখবেন, গহনা যেটাই পরেন না কেন তা যেন অসামঞ্জস্য না হয়।
টিপস
খেয়াল রাখতে হবে, আপনার পার্টি লুক এবং ক্যাজুয়াল লুক সম্পূর্ণই আলাদা। তাই অবস্থা বুঝে পোশাক ও গহনা নির্বাচন করুন। হুট করে বের হওয়া এবং প্রতিদিনের রুটিনে—আপনার পরিচ্ছদ ও গহনা যেন হয় পুরোপুরি আরামদায়ক ও দৃষ্টি নন্দন।
মডেল স্বর্ণা
