চট্টগ্রাম নগরীতে বাস ও পণ্য পরিবহন গাড়ির জন্য স্থায়ী কোনো টার্মিনাল নেই। ফলে গণপরিবহনের বাসগুলো নগরীর কয়েকটি স্থানের সড়কে পার্কিং করে যাত্রী পরিবহন করছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। যাবাহনের বাড়তি চাপে পার্কিং স্থানের সড়ক ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম নগরী থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি-নাজিরহাট-হাটহাজারী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন কয়েক হাজার বাস যাত্রী পরিবহন করে থাকে। কিন্তু এসব রুটে চলাচলরত বাসের জন্য স্থায়ী কোনো টার্মিনাল নির্মিত হয়নি। ১৯৯৫ সালে সিডিএ প্রণীত মাস্টার প্ল্যানে নগরীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফৌজদার হাট এলাকায়, চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কের বালুচরা ও কর্ণফুলী সেতুসংলগ্ন এলাকায় তিনটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের স্থান চিহূিত করা আছে। কিন্তু সিডিএর পরিকল্পনা থাকলেও দীর্ঘ সময়েও টার্মিনাল নির্মিত হয়নি।
এ প্রসঙ্গে সিডিএর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, তিনটি টার্মিনালের স্থান মাস্টার প্ল্যানে চিহূিত করা আছে। প্রথমপর্যায়ে সিডিএ নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও এখন সিটি করপোরেশন নির্মাণ করবে। তারা আমাদের কাছ থেকে ম্যাপ নিয়ে গেছে।’
চট্টগ্রাম থেকে উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন হাজারো বাস চলাচল করে। এসব বাসের জন্য স্থায়ী কোনো টার্মিনাল নেই। আগে ষোলশহর সড়কের ওপর পার্কিং করে উত্তর চট্টগ্রামমুখী যানবাহনগুলো চলাচল করত। গত কয়েক বছর যাবত্ ষোলশহর থেকে সরিয়ে অক্সিজেন মোড়ে সড়কে পার্কিং করে যাত্রী পরিবহন করছে এসব বাস। পরিবহন মালিক সমিতিগুলো দীর্ঘদিন যাবত্ স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দাবি জানিয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম নাজিরহাট-রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলম মঞ্জু ইত্তেফাককে বলেন, আমরা মুরাদপুরে ছিলাম। ওয়ান-ইলেভেনের সময় আমাদেরকে অক্সিজেন মোড়ে নিয়ে আসা হয়েছে। উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ বাস চলাচল করে। এখানে আমরা নানা সমস্যার মধ্যে আছি। পুলিশের টোকেন বাণিজ্যের কারণে আমরা অতিষ্ঠ। চাঁদাবাজি ও হয়রানির কারণে গাড়ি চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কুলগাঁও এলাকায় একটি স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে। জায়গা অধিগ্রহণ করে ১২ একর জায়গার ওপর এটি নির্মাণ করা হবে।’
এ ব্যাপারে আন্তঃজেলা বাস-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের কোনো টার্মিনাল নেই, বাস ডিপো নেই। পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পাশে জায়গাটিতে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য আমরা সিডিএ ও সিটি করপোরেশনের কাছে দাবি জানিয়েছি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা ইত্তেফাককে বলেন, উত্তর চট্টগ্রামের বাসের জন্য কুলগাঁও এলাকায় একটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে।
সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) আমির জাফর ইত্তেফাককে জানান, ‘আমি আসার পর এই ধরনের অভিযোগ পাইনি। চাঁদাবাজি ও টোকেন বাণিজ্য মেনে নেওয়া যায় না। আমি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেব। যদি পুলিশের কারো সম্পৃক্ততা থাকে, অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’
