ক্যাসিনো কাণ্ডের মূল হোতাদের মাঝে খালেদ হোসেন, ইসমাইল হোসেন সম্রাট, জি কে শামীমরা এরই মধ্যে নিজ নিজ দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। একই ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন মোহামেডানের ডাইরেক্টর ইনচার্জ ও বিসিবির পরিচালক লোকমান হোসেন ভুঁইয়া।
খালেদ-সম্রাটদের পরিণতি দেখে ক্রিকেটাঙ্গনেও প্রশ্ন উঠেছে লোকমানের কি হবে? তাকেও কি বিসিবি বহিষ্কার করবে? বিসিবিতে তার অবস্থান কীভাবে থাকবে?
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, দোষী হলে বিসিবিও তাকে ছাড় দিবে না। তবে খুব শিগিগরই লোকমানকে বিসিবির বিভিন্ন কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হবে। লোকমান এখন বিসিবির ফ্যাসিলিটিজ কমিটির চেয়ারম্যান। এছাড়াও কয়েকটি কমিটিতে আছেন তিনি।
গতকাল বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেছেন, বোর্ড সভায় লোকমানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। দ্রুতই বিসিবির বোর্ড সভা হতে পারে।
লোকমানকে বহিষ্কার করা হবে কি না জানতে চাইলে মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘এই বিষয়ে মাননীয় সভাপতি কিছু দিন আগেই আপনাদের ক্লিয়ার করে দিয়েছেন। যদি উনি দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে বোর্ড থেকেও ঐ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অপেক্ষা করছি আর সিদ্ধান্ত নিতে হলে এটা বোর্ডে আলোচনা করতে হবে। পরবর্তী বোর্ড সভাতে আমরা এটা নিয়ে আলাপ করতে পারি।’
ফ্যাসিলিটিজ কমিটি থেকে বাদ দিলেও লোকমানকে পরিচালক পদ থেকে সরাতে পারবে না বিসিবি। সংস্থাটির গঠনতন্ত্রই এটি অনুমোদন দেয় না। বিসিবির গঠনতন্ত্রের সপ্তম অধ্যায়ের ২৪, ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে আচরণ ও শৃঙ্খলার ব্যাপারে বলা হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিসিবির পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক গঠিত কমিটি এ বিষয়ে তদন্ত করবে এবং যথাযথ শাস্তি প্রণয়ন করবে। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থাকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।
রাষ্ট্র কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় শাস্তি হতে পারে লোকমানের। বিভিন্ন কমিটি থেকে তাকে সরিয়ে দিতে পারে বিসিবি। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার পরিচালক পদ কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই বিসিবির।
