দেশের মোট শ্রমশক্তির শতকরা ৮৫ ভাগ শ্রমিক কাজ করে অপ্রাতিষ্ঠানিত খাতে। তারা শ্রম আইনের বাইরে। যে কারণে তারা শ্রমিকের অধিকার থেকে বঞ্চিত। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ, কর্মঘণ্টা, বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিত করতে পারলেই শোভন কর্মদিবস পালন সার্থক হবে। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিশ্ব শোভন কর্ম দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস এবং অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ যৌথভাবে এই ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা’ আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসরাফিল আলম বলেন, দেশের শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপত্তা অন্যান্য ইস্যুর তুলনায় অনেকটাই উপেক্ষিত। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মোট শ্রমশক্তির শতকরা ৮৫ ভাগ শ্রমিক কাজ করে অপ্রাতিষ্ঠানিত খাতে। অথচ তাদের জন্য কোনো আইন নেই, তারা শ্রম আইনের বাইরে। এর কারণে শ্রমিক হিসেবে তাদের যে অধিকার তা থেকে তারা বঞ্চিত। তাদেরকে শ্রম আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ, কর্মঘণ্টা, বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিত করতে পারলেই শোভন কর্মদিবস পালন সার্থক হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের চুক্তিপত্র, পরিচয়পত্র, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, সাপ্তাহিক ছুটি এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নেই। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে এগুলো নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিল্স ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েলের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর যুগ্ম-সমন্বয়কারী মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, বিল্স-এর যুগ্ম মহাসচিব এবং নির্বাহী পরিচালক মো. জাফরুল হাসান, বিল্স-এর যুগ্ম মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, জাতীয় গ্রাহস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আবুল হোসাইন, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের উপপরিচালক ফারিয়া চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শোভনকাজ বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাফিজ আহমেদ।
অনুষ্ঠানে নির্মাণ, মোটর মেকানিক, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লার ও অনলাইনে খাবার সরবরাহ খাতসহ বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিক, সংশ্লিষ্ট খাতের জাতীয় পর্যায়ের ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
