নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট সংশোধনের দাবি

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৭

গতকাল ৭ অক্টোবর  বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্সের কার্যনির্বাহী পরিষদের এক যৌথসভা পুরানা পল্টনস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর রহমান তালুকদার। সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল অব নিউজ পেপার প্রেস ওয়ার্কার্সের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন খান। সভায় উভয় ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নসমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নবম ওয়েজ বোর্ডের দ্বাদশ অধ্যায়ের বেআইনি ও অসংগতিপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা  জ্ঞাপন করা হয়। একই  সঙ্গে মন্ত্রিসভা কমিটি সাংবাদিক শ্রমিক কর্মচারীদের আয়কর প্রদান, গ্র্যাচুইটি ও পর্যায়ক্রম অনুসরণযোগ্য উল্লেখ করে যে সুপারিশ মজুরি বোর্ডের সুপারিশের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেছে তা বাতিল করে ফেডারেশনসমূহের ন্যায়সংগত ও আইনসিদ্ধ দাবিসমূহ সংযোজন করে সংশোধিত আকারে অতিরিক্ত গেজেট প্রকাশ করার জন্য জোর দাবি জানানো হয় ।

নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ গেজেটে অসংগতিগুলো হলো—আয়কর : যেহেতু আয়কর বিষয়টি  সুপ্রিম কোর্টের  আপিল বিভাগে রিট পিটিশন নং-১২০৩/১৯৯১ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকায় এ সংক্রান্ত সুপারিশ আদালত অবমাননার শামিল। গ্র্যাচুইটি : সংবাদপত্র শিল্পের কর্মীরা তিন যুগ ধরে যে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছে তা শ্রম আইনের ২১তম অধ্যায়ের ৩৩৬ ধারা লঙ্ঘন করে বিদ্যমান ২টি গ্র্যাচুইটির স্থলে ১টি গ্র্যাচুইটি মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ  বৈষম্যমূলক। বেতন-ভাতা বৈষম্য : নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদে সাংবাদিকদের গ্রেড-৩ মূল বেতন ৮৫% নির্ধারণ করা হলেও  শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য একই গ্রেডে মূল বেতন ৮০% নির্ধারণ করা হয়েছে। যা চরম বৈষম্যের শামিল। কমিটির নাম : সরকার কর্তৃক ঘোষিত ওয়েজ বোর্ড কমিটির সদস্যদের নাম প্রথম থেকে অষ্টম ওয়েজ বোর্ড পর্যন্ত সকল ওয়েজ বোর্ডের গেজেটে  কমিটির সদস্যদের নাম পদবিসহ উল্লেখ থাকলেও  নবম ওয়েজ বোর্ডের ক্ষেত্রে তাতে ব্যত্যয় ঘটেছে,  যা নিয়মবহির্ভূত। উল্লেখিত দাবিসমূহ সংশোধিত অতিরিক্ত গেজেট আকারে প্রকাশ করার জন্য  রাষ্ট্রপতি, তথ্যমন্ত্রী ও  তথ্য প্রতিমন্ত্রী বরাবরে গত ২৯/০৯/২০১৯ তারিখে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সভায় জানানো হয় অবিলম্বে দাবিসমূহ সংশোধন করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা না হলে গণমাধ্যমে যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই দায়ী থাকবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের মহাসচিব মো. খায়রুল ইসলাম, প্রেস ফেডারেশনের মহাসচিব কামাল উদ্দিন, বজলুর রহমান মিলন, তানভীর হোসাইন, মোহাম্মদ আলী খান অপু, তাজাম্মেল হক, সেকেন্দার আলী, মো. ইউসুব, আবু কাওছার, শামীম চৌধুরী, মোশতাক আহমেদ প্রমুখ। —প্রেস বিজ্ঞপ্তি