আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়ে বলেছেন, ‘ভিন্নমতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলা হবে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এটি করেছে, তাদের কোনো ছাড় নেই। তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে।’ গতকাল সোমবার সচিবালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রবিবার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরার ফাহাদ (২১) নামে এক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। আবরার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে কথা বলেছি। কারা এবং কোন হুজুগে এই কাজটি করেছে, তা খুঁজে বের করতে বলেছি। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের যেন কোনো ছাড় দেওয়া না হয়, তার নির্দেশ দিয়েছি।’
মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে অভিযুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতেই পারে। তবে প্রমাণ ছাড়া অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা যায় না। তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপি যেসব কথা বলছে, এটি তাদের পুরোনো অভ্যাস। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুসম্পর্ক রয়েছে। সীমান্ত চুক্তি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ছিটমহল ও সমুদ্রসীমা চুক্তি করেছেন। তিস্তা চুক্তিও তিনি করতে সক্ষম হবেন। ভারত সফরে আমাদের অর্জনই বেশি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি নিয়ে বিএনপি নেতাদের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়, এটাই নিয়ম। দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্ক বন্ধুত্বে থাকে। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘সব দিয়ে ফেলেছি বিষয়টি তো এরকম নয়। আমাদের পাওয়ার বিষয়টা অনেক বেশি, কারণ সীমান্ত সমস্যার সমাধান আমরাই করেছি। তিস্তা চুক্তিও এই সরকারের আমলেই হবে।’
ক্যাসিনোকাণ্ডে নাম আসার তিন সপ্তাহ পর যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভীর নাটক বলার বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, সেটার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী? এই যোগসূত্রটা তারা কোথা থেকে আবিষ্কার করলেন তা জানতে চাই।’ সম্রাটকে গ্রেপ্তারে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে র্যাবের ডিজি একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘র্যাবের ডিজি তো বলেছেন, সে বাইরে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছিল, তাই সীমান্তের কাছাকাছি ছিল।’ যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্ন হতে পারে, কিন্তু তথ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, প্রমাণের আগে তো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।’ কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা ‘ক্রমান্বয়ে ‘স্পষ্ট হচ্ছে’ মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এসব ব্যাপারে উচ্চাসন থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে পার্টির সেক্রেটারি হিসেবে নির্দেশনা মান্য করে চলি, নির্দেশনা দেওয়ার মালিক আমি নই।’ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওছারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে আসা অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই আসুক, প্রমাণিত হলে কেউ রেহাই পাবে না। রাশেদ খান মেননও একটা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, তাই বলে তাকেও কি ক্যাসিনো ব্যবসায়ী বলবেন?’
যুবলীগ নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যুবলীগের সম্মেলন হবে। চারটি সহযোগী সংগঠনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, তাই নভেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের কাজ শেষ হবে। তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং যতদূর জানি, তারা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নেত্রীর কাছে তারা সময় চেয়েছে।’ এবার যুবলীগের নেতৃত্বে আসার জন্য কোনো বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বসয়সীমা গঠনতন্ত্রে আছে। সেটি যাতে ফলো করা হয়, সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া আছে। যুবলীগের নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সেটা আমি বলতে পারি না, কাউন্সিলররা কী করবে, পরিবর্তন করবে কি না, নেত্রী মাইন্ডসেট পরিবর্তন করবেন কি না, তিনি পরিবর্তন করতে চাইলে অবশ্যই পরিবর্তন করবেন।’
