বরিশালের ওয়াকফ স্টেটের বিপুল পরিমাণ জমি বেহাত হয়ে পড়েছে। ওয়াকফ পরিদর্শকের কার্যালয়, মোতাওয়াল্লি এবং ওয়ারিশদের যোগসাজসে এ সম্পত্তিগুলো লোপাট হয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ওয়াকফ এস্টেটের জমি দিয়ে ব্যাংক লোন নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভবন। ২০১৫ সাল থেকে বরিশাল জেলা ওয়াকফ পরিদর্শকের কার্যালয়ের যাত্রা শুরু হলেও এ পর্যন্ত সকল ওয়াকফ এস্টেট তালিকাভুক্ত করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। তবে এখন পর্যন্ত সদর উপজেলায় ১১০টি ওয়াকফ এস্টেটে প্রায় ৩০০ একর সম্পত্তির হদিস মিললেও বাস্তবে তার অর্ধেকই বেহাত হয়ে গেছে। জেলা ওয়াকফ পরিদর্শক আলহাম আবদুল্লাহ এ বিপুল সম্পত্তি উদ্ধারে আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর আমতলাস্থ স্বাধীনতা পার্কের পূর্ব পাশে আর্শেদ আলী ওয়াকফ এস্টেট থেকে জমি কিনেছে সাবেক ব্যাংকার মো. হাবিব এবং এ জমিতে ভবন করার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণও নেওয়া হয়েছে। একইভাবে তার পার্শ্ববর্তী আলীমুদ্দিন হাওলাদার ওয়াকফ এস্টেট থেকেও অবৈধভাবে জমি বিক্রি করা হয়েছে। এ সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। এভাবে নগরীর অন্যান্য ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তিও বিক্রি হয়েছে নামে-বেনামে। বিক্রির বিধান না থাকলেও এসব সম্পত্তি বিক্রি দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণও নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা ওয়াকফ পরিদর্শকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর প্রায় ২০টি ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি এবং ওয়ারিশদের যোগসাজসে আইন ভঙ্গ করে জমি বিক্রি করা হয়েছে। এরমধ্যে সাগরদী আবদুল হামিদ হাওলাদার ওয়াকফ এস্টেট, সাগরদি আবদুল হামিদ হাং ওয়াকফ এস্টেট, সায়েস্তাবাদ ওয়াকফ এস্টেট, বটতলা মসজিদ মাদ্রাসা, সদর রোডে হোটেল হকের বিপরীতে সায়েস্তাবাদ ওয়াকফে এস্টেট, আলেকান্দা ফখর উদ্দিন লেনে ফখর উদ্দিন ওয়াকফ এস্টেট, আমতলা কালু কন্ট্রাক্টর ওয়াকফ এস্টেট, রূপাতলী ইউনুস গাজি ওয়াকফ এস্টেট, আলেকান্দা মিয়া বাড়ি ছোবেরা বেগম ওয়াকফ এস্টেট, কড়াপুর মিয়া বাড়ি আহম্মেদ আলী মিয়া ওয়াকফ এস্টেট, আমানতগঞ্জ লুত্ফর রহমান খন্দকার ওয়াকফ এস্টেট, নবগ্রাম রোড সাগরদী সিরাজউদ্দিন ফকির ওয়াকফ এস্টেট, কালিজিরা হোসেন আলী ওয়াকফ এস্টেট, আলেকান্দা নুরিয়া স্কুল সংলগ্ন ইউসুফ উদ্দিন কন্ট্রাক্টর ওয়াকফ এস্টেট, সাগরদি নাজেম মল্লিক ওয়াকফ এস্টেটসহ আরো বেশ কয়েকটি ওয়াকফ এস্টেট আইন ভঙ্গ করে বেহাত হয়েছে। অথচ ওয়াকফ অধ্যাদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এস্টেটের মুতওয়াল্লি বা পরিচালক সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। এছাড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী ওয়াকফ পরিদর্শক সংশ্লিষ্ট স্টেটের সম্পত্তি তালিকাভুক্তকরণ, প্রকৃতি ও পরিমাণ নির্ধারণ, হিসাব, রিটানর্সহ তথ্য সংগ্রহ, ওয়াকফের উদ্দেশ্য ও কল্যাণকর কার্যাবলী সম্পত্তি ও এর আয়ের ব্যবহার নিশ্চিতকরা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার নির্দেশ, ওয়াকফ দলিল অনুযায়ী মুতাওয়াল্লির পারিশ্রমিক নির্ধারণ ও তার বেআইনি কার্যকলাপের জন্য তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী উচ্ছেদ করা, কোন সম্পত্তি ওয়াকফ কি না এ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান, বিচারাধীন মামলা-মোকদ্দমা চালানো, পরিচালনা ও তদারকি করাসহ ওয়াকফর যথাযথ নিয়ন্ত্রণসহ রক্ষণাবেক্ষণ করার বিধান রয়েছে।
বরিশাল জেলা ওয়াকফ পরিদর্শক আলহাম আবদুল্লাহ বলেন, ওয়াকফ কমিশনারের অনুমতিসাপেক্ষে মোতাওয়াল্লি ওয়াকফ সম্পত্তির উন্নতির জন্য আংশিক হস্তান্তর করতে পারবেন। মোতাওয়াল্লি যদি তথ্য গোপন করেন কিংবা দুর্নীতিগ্রস্ত হন তাহলে আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত এস্টেট উদ্ধার করা কঠিন নয়। আমাদের নিয়োগকৃত অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে মামলা করে তা উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। কারণ, কোনোভাবেই ওয়াকফ এস্টেট লোপাট করার সুযোগ নেই। এলক্ষ্যেই আমাদের একাধিক কর্মশালা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৫ সালে বরিশাল জেলা ওয়াকফ পরিদর্শকের কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত সব জমির তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।
