দেশে অবাঙালি (বিহারি) ক্যাম্পগুলোতে বকেয়া বিদ্যুত্ বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে এ আটকেপড়া পাকিস্তানিদের বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ করে আসছে সরকারের ত্রাণ বিভাগ। কিন্তু বিহারিদের সিংহভাগ বাংলাদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করায় এখন তাদের বিল পরিশোধে নারাজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। আর নাগরিক সুবিধা নেই—এ অভিযোগ তোলে বিদ্যুত্ বিল দিতে রাজি নয় বিহারিরাও। এ প্রেক্ষাপটে বিপাকে পড়েছে বিদ্যুত্ বিতরণকারী সংস্থাগুলো।
গত শনিবার বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পে বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। এর প্রতিবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিদ্যুত্কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান ক্যাম্পবাসী। বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে মোহাম্মদপুর এলাকা। অভিযোগ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।
বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্র জানায়, গত মে মাস পর্যন্ত বিহারি পল্লিগুলোতে বকেয়া বিদ্যুত্ বিলের পরিমাণ ১৪২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এরপর গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বকেয়ার পরিমাণ আরো বেড়েছে। বিহারিদের সিংহভাগ বাংলাদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করায় ২০১৬ সালের মার্চের পর থেকে তাদের বিদ্যুত্ বিল আর পরিশোধ করবে না বলে জানিয়েছে ত্রাণ বিভাগ। ত্রাণ বিভাগ এবং বিহারি ক্যাম্পগুলোতে যোগাযোগ করেও বকেয়া আদায় করতে পারছে না বিতরণকারী সংস্থাগুলো। এক্ষেত্রে প্রধান বাধা তিনটি। এক. বিদ্যুত্ বিল পরিশোধে ক্যাম্প কমিটির আগ্রহ নেই। দুই. পরিবারভিত্তিক মিটার না থাকায় ক্যাম্পবাসী কোনো ব্যক্তি বা পরিবার চাইলেও বিল পরিশোধ করতে পারছে না। আর বাংলাদেশি নাগরিকের বিদ্যুত্ বিল সরকারি তহবিল থেকে দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই বলে বিল পরিশোধে না সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রাণ বিভাগ।
এ প্রসঙ্গে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাহিদ সারওয়ার বলেন, ক্যাম্প কমিটিগুলোর চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি কিন্তু তারা বিল পরিশোধের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। ক্যাম্পবাসী হিসেবে একটি পরিবারের যে পরিমাণ বিদ্যুত্ ব্যবহারের কথা তারা তারচেয়ে বেশি ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেরও ব্যাপার রয়েছে। জটিলতা নিরসনে আলাপ-আলোচনা চলছে।
ক্যাম্পগুলোর বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে গত জুন মাসে বিদ্যুত্ সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, বকেয়া বিদ্যুত্ বিল পরিশোধের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ প্রদানের জন্য অর্থ বিভাগ বরাবর চাহিদাসহ চিঠি দিতে হবে। কিন্তু সে অর্থ এখন পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের ক্যাম্পগুলোর বিদ্যুত্ বিল আর পরিশোধ করা হবে না জানানো হলে ক্যাম্প অধিবাসীদের পৃথক পৃথক সংযোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু পৃথক সংযোগ এখনো গ্রহণ করেননি ক্যাম্পবাসী।
