শরণখোলায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের জন্য চিকিৎসক ২ জন

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৩৮

শরণখোলার দেড় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছেন মাত্র দুইজন চিকিৎসক। দীর্ঘ ১১বছর যাবৎ অচল রয়েছে এক্স-রে মেশিন। টেকনিশিয়ানের অভাবে প্যাথলজি ল্যাব বন্ধ থাকায় ৮ বছর ধরে হাসপাতালে হচ্ছে না কোন পরীক্ষা নীরিক্ষা। ৫৬ টি বিভিন্ন পদ শূণ্য থাকায় এ হাসপাতালে  মানুষ প্রয়োজনীয়  চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। অবস্থা এমন যেন হাসপাতাল নিজেই রোগী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ২৫ জন চিকিৎসকের বিপরীতে রয়েছেন ২ জন চিকিৎসক। ২ জন ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের আভ্যন্তরীণ, জরুরি ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

আবাসিক মেডিকেল অফিসার, জুনিয়ার কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়ার কনসালটেন্ট (শৈল্য), জুনিয়ার কনসালটেন্ট (গাইনী), জুনিয়ার কনসালটেন্ট এ্যানেস্থেসিয়া, ডেন্টাল সার্জন ও হোমিওপ্যাথিক সহ ২৩ জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্স ৪ জন, ফার্মাসিস্ট ২ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি), স্বাস্থ্য পরিদর্শক ২ জন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৫ জন, স্বাস্থ্য সহকারী ১৪ জনের পদ সহ বিভিন্ন পদে ৫৬ পদ খালি রয়েছে।

একজন টেকনিশিয়ানের অভাবে ৮ বছর ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে প্যাথলজি ল্যাব। ফলে রোগী সাধারণের বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেশি টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় রোগের পরীক্ষা নীরিক্ষা করাতে হয়।

হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও এ্যানেস্থেসিয়ার ডাক্তার না থাকায় সেটি প্রায়ই বন্ধ থাকে। অপরদিকে, দীর্ঘ ১১ বছর যাবৎ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিনটি বিকল থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ চরমে। অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে সুদুর জেলা সদর বাগেরহাটে এক্সরে করতে যেতে হয়। এখানকার এক্সরে টেকনিশিয়ানকে মোংলা উপজেলা হাসপাতালে ডেপুটেশনে বদলি করা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় জ্বালানী তেলের অভাবে এ হাসপাতালের উন্নত মানের জেনারেটরটি চালু করা হয় না। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের নিজেদের ব্যবস্থাপনায় মোমবাতিসহ অন্যভাবে আলোর ব্যবস্থা করতে হয়।

৩১ শয্যা থেকে  ৫০ শয্যায়  উন্নীত হওয়া উপজেলার একমাত্র সরকারি এ  হাসপাতালে প্রতিদিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বহির্বিভাগে প্রায় দেড় থেকে দুশ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ডাক্তারের অভাবে রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ নিতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জামাল মিয়া (শোভন) বলেন, প্রতিদিন এ হাসপাতালে উপজেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় দুশ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়া হাসপাতালে অর্ধশতাধিক রোগী সব সময় ভর্তি থাকে। এ সব রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া ২ জন ডাক্তারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাক্তার সংকটের কারণে দিন-রাত সমানভাবে কাজ করতে হচ্ছে।  অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তার বদলি হয়ে এলেও তারা স্থানীয় মানুষের আচরণের কারণে বেশিদিন থাকতে চায় না। ডাক্তার সংকট ও  হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যার কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পিতাপূত্র নিখোঁজ

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. জি. কে.সামসুজ্জামান বলেন, 'শরণখোলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা সমস্যা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ৩৯তম  বিসিএস থেকে নিয়োগ দিলে চিকিৎসক সংকটের সমাধান হবে। অন্য সমস্যা সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করি খুব শিঘ্রই এ সব সমস্যার সমাধান হবে।'

ইত্তেফাক/নূহু