মাধবীর সুবাস

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:১১

এগিয়ে যাওয়া

  মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

 

মানুষ কষ্ট পেতে পেতে নষ্ট হয়ে যায়, আর আমি মানবিক হয়ে উঠেছি। মানুষের সেবার মাঝেই প্রকৃত সুখশান্তি। কথাগুলো মনেপ্রাণে ধারণ করেন যে মানুষটি তার নাম সাবিনা ইয়াসমিন মাধবী। স্তন ক্যানসার সচেতনতায় কাজ করছেন। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, অর্থনীতিক সমস্যা যাই আসুক না কেন মাধবীকে কেউ রুখতে পারছে না। সাইকেলে চেপে স্কুল, কলেজে, পোশাক কারখানাগুলোতে যাচ্ছেন। বুঝিয়ে বলছেন স্তন ক্যানসারের লক্ষণগুলো। কিভাবে সচেতন থাকতে হবে। রাজধানীর একটি কলেজে মাস্টার্স পড়াশোনা করছেন তিনি। গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার রানা হিজল গ্রামে।

বাংলাদেশে প্রতি আট জন নারীর একজন স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিতে। আর নারীর মৃত্যুর প্রধান পাঁচটি কারণের মধ্যে এই স্তন ক্যানসার অন্যতম। স্তন ক্যানসারে আক্রান্তদের মাঝে প্রতি ১১ মিনিটে একজন নারীর মৃত্যু হচ্ছে। আমাদের দেশে স্তন ক্যানসারে মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। প্রতিবছর দেশে প্রায় ২৫ হাজার নারী এই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর আক্রান্তদের মাঝে প্রতিবছর মারা যান প্রায় ৮ হাজার নারী। স্তন ক্যানসারে মৃত্যুর হার বেশি হবার অন্যতম বড়ো কারণ সচেতনতার অভাব। চিকিত্সকদের মতে, মূলত সচেতনতার অভাবেই নারীদের মাঝে স্তন ক্যানসার ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। স্তন ক্যানসার বিষয়ে কোনো ধারণাই নেই অধিকাংশ নারীর। ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়লে তারা চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন। তখন আর কিছু করার থাকে না জানান চিকিত্সক মুজিবুল হক আরজু।

মাধবী তাই মানুষকে সচেতন করার কথা ভাবলেন। তিনি বেছে নিলেন স্কুল, কলেজ, পোশাক কারখানাগুলো। কারণ আগে থেকেই স্কুল, কলেজের মেয়েদের সচেতন করা গেলে তারা কম আক্রান্ত হবে। আর অসচেতন মানুষগুলোর একটি বড়ো অংশ হলো কারখানাগুলোর নারী শ্রমিক। অর্থনীতির চাকা সচল রাখলে ও তাদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি দেখার কেউ নেই। নিদারুণ এক অবহেলা, উদাসীনতা কাজ করে এই ব্যাপারে। এ বিষয়ে সাবিনা বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্ত করতে না পারার কারণেই স্তন ক্যানসারে আক্রান্তদের মাঝে মৃত্যুর হার বেশি। নারীদের লজ্জা, কুসংস্কার ও সচেতনতার অভাবের কারণেই মূলত এই মৃত্যুর হার বাড়ছে। অথচ একটু সচেতন হলেই এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করতে পারলে এ রোগ নিরাময় করা সম্ভব।

এরই মধ্যে মাধবী চট্টগ্রামের আটটি স্কুল ও সাতটি পোশাক কারখানায় গিয়ে স্তন ক্যানসার নিয়ে কথা বলেছেন। তার লক্ষ্য হলো এক বছরের মধ্যেই দেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ শেষ করা।

ভ্রমণের সব খরচ সাবিনা ইয়াসমিন মাধবী নিজেই বহন করছেন। কেউ স্পনসর করলে তার জন্য সুবিধা হতো বলে তিনি জানান। বেসরকারি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান তার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। কেমন সাড়া পাচ্ছেন জানতে চাইলে মাধবী বলেন, স্কুল,কলেজের ছাত্রী, কারখানার নারী শ্রমিকরা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। তারা মন দিয়ে আমার কথা শুনে প্রশ্ন করে জেনে নিচ্ছেন নানা বিষয়।

মাধবী ফুলের সুবাস যেমন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে, তেমনি মাধবী নামের মেয়েটি ভালো কাজের সুবাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন। যা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা,অনুকরণীয় হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন।