ভালো বক্তব্য কিংবা নেটওয়ার্কিং করতে পারা—এ ধরনের নন-টেকনিক্যাল স্কিলগুলোকেই বলা হয় সফট স্কিল। ক্যারিয়ারে সফলতা পেতে টেকনিক্যাল স্কিলের পাশাপাশি নন-টেকনিক্যাল স্কিলগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চাকরির শুরু থেকে, পদোন্নতি, কর্মদক্ষতায় প্রয়োজন সফট স্কিলের। একবিংশ শতাব্দীতে নতুন প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য এই সফট স্কিল ডেভেলপমেন্টে কাজ করা এমনই কয়েকজন তরুণ প্রতিনিধিকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন
দক্ষতা উন্নয়নে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ ওয়ার্কস ফেয়ার-এর
|
পে |
শাসূত্রে থাকেন মালয়েশিয়াতে, কাজ করেন নিজের দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে, তিনি মো. মেহেদী হাসান। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে গড়ে তুলেছেন ওয়ার্কসফেয়ার স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট। রাজধানীর শেখেরটেকে প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। এখানে কাজ করছেন বেশ কয়েকজন মেধাবী তরুণ। মেহেদী হাসান একজন সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা। চাওয়া -পাওয়ার হিসাব মেলান খুবই কম। সবকিছুই সহজভাবে চিন্তা করেন। চুয়াডাঙ্গা জেলের অদূরে চণ্ডিপুর নামক গ্রামে তার জন্ম। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সেখানেই।
মেহেদী হাসান মাস্টার্স ইন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে পড়েছেন মালয়েশিয়াতে ফ্রান্সের ইউরোপিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শাখায়। বর্তমানে পিএইচডি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিজের প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্কসফেয়ার স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, আমার দেশের তরুণেরা ডিজিটাল মার্কেটিং বুঝুক, বুঝুক ফ্রিল্যান্সিং। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গড়ে নিক তাদের আগামীর বাংলাদেশ। আমি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ট্রেইনার পাঠানোর কাজ শুরু করেছি, যারা হাইপ্রোফাইলড, স্কিলড। দেশে আমাদের ট্রেইনিং মডিউলে প্রফিট মডেল নেই, পুরোটাই দেশের তারুণ্যের উন্নয়নে কাজে লাগে এমনভাবে তৈরি।’
তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের কথা তখন, আমি ঢাকার গ্রিনরোডে চাকরি করতাম। বাসা ছিল পূর্ব রাজাবাজারে। শীতের গভীর রাতে হেঁটেই বাসায় ফিরছিলাম। পান্থপথ সিগন্যাল পার হয়ে ফার্মগেট যাওয়ার রাস্তার ফুটপাতে দেখলাম, একজন মা ও তার ছোট বাচ্চা নিয়ে প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে। নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছিল। নিজের গায়ের জ্যাকেট ও পকেটে যে টাকা ছিল, তা দিয়ে বাসায় চলে এলাম। তারপর থেকেই তাদের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করতাম। তারপরই ২০১৫ সালে নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করি আরপি ফাউন্ডেশন।’
অনেকটা নীরবে, পরিচয় গোপন করে এই গত ৩ বছর আরপি ফাউন্ডেশন কাজ করছে। বর্তমানে আরপি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পরিচিত সামাজিক সংগঠন। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় এর প্রতিনিধি, সদস্য রয়েছে। এর পাশাপাশি ওয়ার্কস ফেয়ার স্কিলস ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ চলছে। ওয়ার্কস ফেয়ারের ব্যানারে ডিজিটাল মার্কেটিং, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, প্রজেক্ট প্রপোজাল তৈরিসহ নানা দারুণ কন্টেন্টে ট্রেনিং হয়ে থাকে। এর ফেসবুক পেজে নিয়মিত তথ্য পাওয়া যাবে। মেহেদী বলেন, ‘দেশের ভালো খবরে আনন্দ উল্লাস করি। দেশের সংকটময় সময়গুলোতে হূদয়ের বাঁ পাশে কিসের যেন বেদনা অনুভূত হয়। প্রবাসে প্রতিটি মানুষের হূদয়ে প্রতিধ্বনিত হয় আমার দেশ, আমার প্রিয় বাংলাদেশ সবুজের মাঝে লাল সূর্য কল্পনা করলে দু চোখ গভীর আবেগে ভিজে ওঠে। হয়তো এরই নাম দেশপ্রেম।’
০০০
দক্ষ পেশাজীবী গড়ার লক্ষ্যে
ক্যাম্পাস টু কর্পোরেট
|
মে |
ধাবী প্রজন্মকে কর্পোরেটের প্রথম পাঠ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে ক্যাম্পাস টু কর্পোরেট। এর প্রতিষ্ঠাতা হোমায়রা শারমীন তার দীর্ঘ ২২ বছরের পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের সফট স্কিল উন্নয়নে এবং তাদের মানবসম্পদে রূপান্তর করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। পেশাগত জীবনে তিনি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কোম্পানিতে বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি কর্মজীবন শুরু করেন সানফি নামক একটি ফরাসি কোম্পানিতে মার্কেটিং বিভাগে। সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন জিএসকেতে। প্রথম আলো জবসের হেড অব অপারেশন্স ছিলেন তিনি। দৈনিক বণিক বার্তার ম্যানেজিং এডিটর হিসেবেও ছিলেন কিছুদিন। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে, পরবর্তীতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবসম্পদ এবং মার্কেটিংয়ের ওপর এমবিএ করেছেন।
হোমায়রা শারমীন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের কোম্পানিতে মধ্যম ও উচ্চ পদের কর্মচারীর চরম সংকট চলছে। যার ফলে বিদেশ থেকে চড়া দামে উচ্চ পদের কর্মচারী আনতে হচ্ছে। এত বিপুল জনসংখ্যার দেশে কেন এই সংকট? এর কারণ হলো, আমাদের চাকরি দেওয়ার সময় প্রার্থী নির্বাচন এবং নিয়োগের ধাপগুলো সঠিকভাবে মানা হয় না। একবার চাকরি পাওয়ার পর আমরা সোনার হরিণ পেয়ে জাই, নিজেদের আর উচ্চতর পদের জন্য তৈরি করি না। নিয়োগদানের পর কোম্পানিগুলো কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কোনো কর্মশালার আয়োজন করে না। ফলে ৫-৭ বছর পর এসব কোম্পানিতে সঠিক ম্যানেজারের অভাব দেখা দেয়।’
ক্যাম্পাস টু কর্পোরেটের উদ্দেশ্য সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের মধ্যে কোমল দক্ষতার শূন্যস্থানগুলো পূরণ করা। কারণ সফট স্কিল ছাড়া একজন ভালো পেশাজীবী আশা করা যায় না। এটি একটি স্টার্টআপ ফার্ম। বর্তমানে তাদের সেবা নিচ্ছেন মধ্যম ও বড় আকারের কিছু কোম্পানি।
ভবিষ্যতে হোমায়রা শারমীন ক্যাম্পাস টু কর্পোরেটকে একটি পূর্ণাঙ্গ সফট স্কিল ইনস্টিটিউট হিসেবে গড়ে তুলতে চান। কোমল দক্ষতা তৈরি করতে চান ক্যাম্পাস থেকেই, এভাবেই সবার ক্যাম্পাস থেকে কর্পোরেটে যাত্রা সুখময় করতে চান তিনি।
০০০
লিডারশিপ দক্ষতা গড়ে তুলতে
আইডল ফোকাস
|
‘অ |
াপনি যদি খেয়াল করে দেখেন, আপনার আশপাশে যারা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন, তার অন্যতম কারণ হলো সফট স্কিল, যার মাধ্যমে একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট কর্মস্থলে ঢুকে থাকে। আর আইডল ফোকাস (idolfocus.com ) সফট স্কিলের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কাজ করছে।’ এমনটাই বলেন আইডল ফোকাসের প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লব কান্তি দাস। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে আর্থিক অনটনে বড় হয়েছেন বিপ্লব কান্তি দাস জয়। একটি বেসরকারি সংস্থার স্কুলে প্রাথমিক পড়াশোনার পর রায়েরবাজার হাইস্কুল ও ঢাকা স্টেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন। পরে ভর্তি হন আইইউবিএটিতে। সেখান থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্টে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলিমউল্লাহ মিয়ানের হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি অফিসের দায়িত্ব পান। ২০১৪ থেকে সেখানে কাজ করেন ২০১৮ পর্যন্ত। ব্যবসা করার ইচ্ছা থাকলেও পুঁজি ও অভিজ্ঞতার অভাবে হয়ে ওঠেনি। তবে কলেজে পড়ার সময় থেকেই সেভ দ্য চিলড্রেন, ঝিনুকমালা ও কিছু স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাদে পাবলিক স্পিকিং, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, মঞ্চনাটকে অভিনয় ও গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল তার; সেটাই তাকে মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করার ব্যাপারে উত্সাহ জুগিয়েছে। সেই পথ ধরেই বর্তমানে আইডিয়াল ফোকাসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আইডিয়াল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি ক্যারিয়ার ট্রেনার, পাবলিক স্পিকার, ক্যারিয়ার কাউন্সিলার ও টিচিংয়ে কাজ করছেন। নিজের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের জন্য পুত্রা বিজনেস স্কুল, মালয়েশিয়া যাচ্ছেন পিএইচডির জন্য। এছাড়া তিনি বোল্ডের প্রফেশনাল মেম্বার, বিএসএইচআরএমের একজন সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে চাকরি শুরু করার সময় থেকেই তিনি ভাবতেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই লিডারশিপ কোয়ালিটি আছে, এটিতে ফোকাস করে তাদের উত্সাহ দিয়ে স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য কাজ করা যেতে পারে। সেই ভাবনা থেকেই ২০১৭ সালে শুরু করেন ফোকাস আইডলের কার্যক্রম। নিয়মিত ‘মিট দ্য ম্যানেজিং ডিরেক্টর, অ্যা কাপ অব টি উইথ এইচআর প্রফেশনালস’-এর মতো ভিন্ন আয়োজন করে সুনাম কুড়িয়েছেন বিপ্লব। এছাড়া কিছু সফট স্কিল ও আইটি ট্রেনিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ইংলিশ স্পোকেন ও প্রেজেন্টেশন, লিডারশিপ স্কিল ডেভেলপমেন্টের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এখানে। পাশাপাশি অফিস প্যাকেজ, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ওয়েব ডিজাইনেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে বেশকিছু পরিকল্পনা আছে তাদের। আইডল ফোকাস বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে লিডারশিপ স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, আইইএলটিএস কোর্স, ইংলিশ স্পোকেন অ্যান্ড প্রেজেন্টেশন, নিউজ ও প্রোগ্রাম উপস্থাপনা মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজ, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন।
০
ভ্যাট ট্যাক্স বিষয়ক সচেতনতায় আইপিডিপি
দেশের শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী এবং কর্পোরেটের দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন ইনস্টিটিউট অব প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামসের (আইপিডিপি ট্রেনিং) প্রতিষ্ঠাতা এ এফ এম শিহাব উদ্দিন।
আইপিডিপি মূলত, যারা সরকারি অথবা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে তাদের তাদের ডিপার্টমেন্টের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আইপিডিপি ইনকাম ট্যাক্স, ভ্যাট, সাপ্লাই চেইন, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং, হিউমান রিসোর্স, এক্সেল, ব্যাংকিং এলসি, হেলথ সেফটি, ফায়ার সেফটি , ইন্ডাস্ট্রিয়াল উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ের ওপর দীর্ঘ ও স্বল্প মেয়াদি ট্রেনিং আয়োজন করে থাকে। এর মাধ্যমে চাকরির পাশাপাশি সফট স্কিল ট্রেনিং গড়ে তুলতে পারে একজন দক্ষ চাকরিজীবী। যারা কাজ করবে প্রতিষ্ঠান ও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। নতুন ভ্যাট আইন এবং ইনকাম ট্যাক্স এর যাবতীয় বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের বিস্তারিত মডিউল আছে। দেশের অন্যতম প্রতিভাবান ট্রেনিং রিসোর্স ব্যক্তিরা আসেন আইপিডিপির প্রোগ্রামে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইনস্টিটিউট অব প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামস বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং, ওয়ার্কশপ ও কনসালটেন্সি পরিচালনা করে যাচ্ছে। এর মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদি সার্টিফিকেট ট্রেনিংগুলো ৫ সপ্তাহব্যাপী হয়ে থাকে, এগুলো হলো ইনকাম ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট, নতুন ভ্যাট আইন এবং কাস্টমস ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেন ম্যানেজমেন্ট, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, ভ্যাট ম্যানেজমেন্ট, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, লিডারশিপ অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট, নিউজ ও প্রোগ্রাম উপস্থাপনা, গ্রাফিক্স ডিজাইন। স্বল্প মেয়াদি সার্টিফিকেট ট্রেনিংগুলো সাধারণত ৮ ও ১৬ ঘণ্টার হয়ে থাকে, এগুলো হলো নতুন ভ্যাট আইন, হাতে কলমে ভ্যাট, হাতে কলমে ট্যাক্স, ফায়ার সেফটি ম্যানেজমেন্ট, হেলথ সেফটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং, নেগোসিয়েশন স্কিলস, কাস্টমার সার্ভিস। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগের ঠিকানা : www.ipdpbd.com। আইপিডিপির ভবিষ্যত্ মূল লক্ষ্য, দেশের প্রত্যেকটা ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী মানুষকে নতুন ভ্যাট আইন এবং ইনকাম ট্যাক্স সম্পর্কে ভালো ধারণা দেওয়া।
