মো. উমর ফারুক
স্কুল-কলেজের ছোট্ট গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ। পাড়ার প্রাণের বন্ধু-বান্ধব রেখে নতুন ক্যাম্পাসে নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া সহজ বিষয় নয়। সে সময়টা অনেক বিরক্তিকর ও ভালো না লাগার গল্প। সেই বিরক্তিকর গল্পের মাঝে নতুন আলো জ্বেলে আবির্ভাব ঘটেছিল একটি পরিবারের। বলছিলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২৭তম ব্যাচের বন্ধুত্বের কথা। দিনটি ছিল ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি রবিবার। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটি সবার জন্যই বহুল আকাঙ্ক্ষিত ও আনন্দময় বটে ! কেননা একটি যুদ্ধে জয়ের পর জয়ীদের যে উল্লাস তারই প্রতিফলন এই দিনটি! সবাই ভিন্ন-ভিন্ন জেলা থেকে মিলিত হয়েছিলাম এই বিভাগে। নবীনদের বরণ করে নেওয়ার জন্য বিভাগের রুমগুলো রঙে রঙিন করে তুলেছিল, কেউ বা নতুন ড্রেসে আবার কেউ বা নতুন শাড়িতে নিজেকে রাঙিয়েছে নতুন সাজে। কেউ কারো পরিচিত নই কিন্তু কিভাবে যেন সেদিনই সবাই সবার সঙ্গে মিলিত হয়ে গেলাম। এই দিনটি থেকেই শুরু আমাদের পথচলা। সময়ের পরিক্রমায় সব অপরিচিত মুখগুলো ধীরে-ধীরে পরিচিত হয়ে উঠলো। নতুন বন্ধু- বান্ধবীদের সঙ্গে ক্লাসে, আড্ডায় কখন যে সবার চিরচেনা হয়ে গেছি সেই ভাবনার অবকাশ নেই। ক্যাম্পাস মানেই বন্ধুত্ব আর বন্ধুত্ব মানেই ক্যাম্পাস। আড্ডা, গান আর খুনসুটিতে মেতে থাকা হয় প্রতিমুহূর্ত। সেমিনার, লাইব্রেরি, কখনো শহীদ মিনার, কখনো বুদ্ধিজীবী, আবার টুকিটাকি চত্বরে বসে চায়ের কাপে জমে ওঠে আমাদের প্রাণবন্ত আড্ডা।
ক্লাস-পরীক্ষার ফাঁকে সময়-সুযোগ পেলেই বন্ধুদের নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া। শুধু তাই নয়, পড়াশোনার মাঝে চলে তুমুল যুদ্ধ। বিভাগে কার থেকে কে ভালো ফলাফল করবে এ নিয়েও চলে প্রতিযোগিতা। দুঃসময় কিংবা সুসময় বন্ধুদের ছুটে চলা একসঙ্গে। এ যেন পরিবারের বাইরে আরো একটি পরিবারের আত্মার বন্ধন। দেখতে দেখতে ক্যাম্পাস জীবনে কেটে গেলো প্রায় ২২টি মাস। বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরো দৃঢ করতে আয়োজন করা হয়েছিল ক্লাস পার্টি। বিভাগের সভাপতি ও শিক্ষকরা কেক কেটে ব্যাচের ক্লাস পার্টির শুভ সূচনা করেন। গান-বাজনার তালে নৃত্যে মেতে উঠেছিল সবাই একসঙ্গে। দিনব্যাপী আনন্দ-উল্লাসে ও রঙিন আয়োজনের মধ্যদিয়ে ক্লাস পার্টি শেষ হয়।
ছবি: আসিফ আহম্মেদ দিগন্ত
