সোনারগাঁওয়ে পোশাক শ্রমিককে গণধর্ষণ ঘটনায় গ্রেফতার ৫

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ২০:১১

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের জামপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মনবাওগা গ্রামে এক গার্মেন্ট কর্মীকে ৭ জন মিলে রাতভর গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর ওই গার্মেন্ট কর্মীকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ৭ জনকে আসামি করে ওই গার্মেন্টকর্মী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় দুই আসামি পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন তালতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আহসানউল্লা।

সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা মামলার এজহারে বাদী উল্লেখ করেন, রূপগঞ্জের রবিন গার্মেন্টে তিনি চাকরি করেন। গত সোমবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে গার্মেন্ট ছুটি শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি গার্মেন্টের সামনে থেকে গাউছিয়া যাওয়ার জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশায় উঠেন। ওই সময়ে জাহাঙ্গীর নামের এক অভিযুক্ত ধর্ষক পেছনের সিটে বসা ছিলো। গাউছিয়া যাওয়ার পর ওই গার্মেন্ট কর্মী সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামতে চাইলে পেছনের সিটে বসা জাহাঙ্গীর তাকে বাঁধা দেয়। পরে সিএনজি চালককে সিএনজিটি দ্রুত গতিতে সোনারগাঁওয়ের তালতলার দিকে চালিয়ে যেতে বলে। চালক ধর্ষক জাহাঙ্গীরের কথামতো গাড়িটি চালিয়ে যায়। এ সময় ওই গার্মেন্ট কর্মীর মুখে সাদা রঙের কসটেপ লাগিয়ে দেয় তারা।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তালতলা এলাকায় হালিম মিয়ার ঘরে নিয়ে আটকে রাখে তাকে। ওই সময় হালিম মিয়া বাড়িতে ছিলেন না। পরে গভীর রাতে ব্রাহ্মনবাওগা গ্রামের মুজিবুর রহমানের বখাটে ছেলে আবু সাইদ, রেহাজউদ্দিনের ছেলে ইমরান, নবি হোসেনের  ছেলে রনি, আবু সিদ্দিকের ছেলে আবুল হোসেন, ভট্টু মিয়ার ছেলে মাসুদ, আমির হোসেনের ছেলে আরিফ ও  সামসুল হকের ছেলে জাহাঙ্গীর ওই গার্মেন্ট কর্মীকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

রাত সাড়ে তিনটার দিকে হালিম মিয়া বাড়িতে এসে এ ঘটনা দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫ ধর্ষককে গ্রেফতার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধর্ষক আরিফ ও জাহাঙ্গীর পালিয়ে যায়। পুলিশ অসুস্থ ওই গার্মেন্ট কর্মীকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

তালতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আহসানউল্লাহ জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুজন পলাতক রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সংবাদ সম্মেলনে অধিকাংশ প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আইন বিভাগের সভাপতি

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, গণধর্ষণের ঘটনার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের আদালেেত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ইত্তেফাক/নূহু