জগন্নাথপুরে সোমবার রাতে দূর্গোৎসব দেখতে বেরিয়েছিলেন নিউটন দেব লিটন (৪৫), মঙ্গলবার সকালে তার মৃতদেহ বাসার দরোজা থেকে উদ্ধার করেছেন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়। নিউটন দেব একজন কম্পিউটার ব্যবসায়ী।
নিহত নিউটন দেব লিটনের পরিবারের সদস্যরা জানান, তার অচেতন দেহ দরোজার সামনে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি থানায় জানোনো হলে পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিহত নিউটন দেব লিটনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
নিহত নিউটন দেব লিটন হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বটছর গ্রামের মৃত নিকুঞ্জ দেবের ছেলে। তিনি র্দীঘ দিন ধরে জগন্নাথপুর থানা ভবনের সামনে একটি মার্কেটে মা কম্পিউটার এন্ড ফটোস্ট্যাট দোকান খুলে ব্যাবসা করে আসছিলেন। তিনি বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়ে নিয়ে জগন্নাথপুর পৌর শহরের সি/এ মার্কেটের একটি আবাসিক ভবনে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিউটন দেব লিটনের বৃদ্ধা মা আরতি রানী দেব, স্ত্রী সঞ্চিতা দেব ও অবুঝ ৩ শিশুর বুকফাঁটা করুন আহাজারীতে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক শত লোক নিউটন দেবের বাসায় ছুটে যায়। পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানায়।
পরিবার ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নিউটন দেব লিটন শারদীয় দূর্গোৎসবের মহানবমী অনুষ্টান দেখতে জগন্নাথপুর থানার এস আই অনুজ কুমার দাশের আমন্ত্রণে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর গ্রামে যান। এরপর ভোরবেলা বাসার দরোজা খুলেই তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তার স্ত্রী।
জগন্নাথপুর থানার এসআই অনুজ কুমার দাস বলেন, 'আমার আমন্ত্রণে নিউটন দেব লিটন পূজার অনুষ্টান দেখতে গেলেও ওই দিন মধ্য রাতে জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলার সুহেল আমিনের মোটর সাইকেলযোগে লিটন তার নিজ বাসায় ফিরে যান।'
আরও পড়ুন: খুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত গৃহবধূর মৃত্যু
থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, নিউটন দেব লিটনের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য গতকাল মঙ্গলবার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
