কাতারের বিপক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দ্বৈরথে নামার আগে বাংলাদেশ দলকে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে এশিয়ান গেমস ফুটবলেরই একটা জয়। সেটিতেও প্রতিপক্ষ ছিল কাতার। গেল বছর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের সেই ম্যাচে অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়ার একমাত্র গোলে কাতারের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় এক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
যদিও শক্তিসামর্থ্যে কাতারের সেই দলের সঙ্গে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের ফারাক বিস্তর। তারপরও আসন্ন লড়াইয়ের প্রাক্কালে তা থেকেই অনুপ্রেরণা খুঁজছে কোচ জেমি ডের দল। এমনিতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শুরুটা ভালো হয়নি। তাজিকিস্তানে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ভালো খেলেও আফগানিস্তানের কাছে হারতে হয়েছিল।
সে ম্যাচের ঠিক এক মাস পর কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এবারের বিপক্ষ কাতার। তার আগে বাংলাদেশের প্রধান দুশ্চিন্তার নাম চোট। রক্ষণভাগের অভিজ্ঞ সব খেলোয়াড়ই চোটের খড়গে মাঠের বাইরে। ডিফেন্ডার তপু বর্মন দীর্ঘদিন ধরেই চোটগ্রস্ত, আফগানিস্তান ম্যাচের পর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ছিটকে গেছেন পরিণত হতে থাকা টুটুল হোসেন বাদশাও। মাঝমাঠে আতিকুর রহমান ফাহাদ ও মাশুক মিয়া জনিদেরও একই সমস্যায় ম্যাচটিতে পাচ্ছেন না কোচ জেমি। সঙ্গে যোগ হয়েছে নিষেধাজ্ঞার আঘাত। কার্ড সমস্যার কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষও।
কোচ জেমি ডে অবশ্য এর ইতিবাচক দিকটাকেই বড়ো করে দেখতে চাইছেন। বৃটিশ এই কোচ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘অভিজ্ঞরা নেই তা ঠিক। তবে এটা তরুণদের জন্য দারুণ সুযোগ। এমন সব সুযোগই তাদের আরো ভালো খেলোয়াড় বানায়, অভিজ্ঞতা বাড়ায়।’
এশীয় চ্যাম্পিয়ন কাতারের পালটা আক্রমণ নির্ভর ফুটবলের বিপরীতে রক্ষণ আরো নিখুঁত হতে হবে বলে জানান ইংলিশ এই কোচ। জানালেন ভুটানের বিপক্ষে দুটি জয়ের আত্মবিশ্বাস এখানে বড়ো ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, ‘কঠিন এক ম্যাচই হতে যাচ্ছে। তাদের দারুণ সব খেলোয়াড় আছে যারা বল খুব দ্রুত ওপরে পাঠাতে পারে। তাদের বিপক্ষে রক্ষণটা মজবুত রাখতে হবে আমাদের। ম্যাচটির জন্য শেষ এক সপ্তাহে প্রস্তুত হয়েছি আমরা। ভুটানের বিপক্ষে দুটো ভালো ফল পেয়েছি যা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।’
মিডফিল্ডার রবিউলও জানালেন রক্ষণাত্মক কৌশলেই মাঠে নামবে দল, ‘কাতারের বিপক্ষে ভারতও রক্ষণাত্মক খেলেছিল। আমরা বড়ো দলের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক খেলি। এই ম্যাচেও রক্ষণ সামলে পালটা আক্রমণে ওঠাই আমাদের লক্ষ্য থাকবে।’
গেল এশিয়াডের গ্রুপপর্বে কাতারের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় সে জয় বাংলাদেশকে তুলে দিয়েছিল পরবর্তী পর্বে। এবার তেমন কিছু হলে বাছাইপর্বের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ারও বড়ো সুযোগ তৈরি হবে। সে ম্যাচটি থেকে অনুপ্রেরণা নিলেও বাস্তবতার ব্যাপারটা ভালোভাবেই মাথায় রাখছেন কোচ।
জেমি ডের ভাষ্য, ‘সে ম্যাচে দারুণ খেলেছিলাম আমরা। সেই ম্যাচের কিছু খেলোয়াড় আছে দুই দলেই। অনুপ্রেরণা হিসেবে সে ম্যাচটা অসাধারণ। তেমন একটা ফলাফল পেতে চাইবো অবশ্যই। তবে অনূর্ধ্ব-২৩ আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ফুটবলের মানে পার্থক্যটা অনেক বেশি। তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও বৃষ্টি নামার ভালো সম্ভাবনাই আছে কাল। গতকালই যেমন অনুশীলন শেষে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি এরকমটাই জানান দিল। আগামীকাল তেমন কিছু হলে কাতারের প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবলে ব্যাঘাত ঘটিয়ে স্বাগতিকদের জন্যে কিছুটা সুবিধাই বয়ে আনবে বলে জানান বাংলাদেশ কোচ, ‘এটা বড়ো ভূমিকা রাখতে পারে। বৃষ্টি হলে মাঠ কিছুটা নরম হয়ে আসবে। যা আমাদের সাহায্য করতে পারে।’
