শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার মাত্র দুই জন

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৮

শরণখোলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা চলছে মাত্র দুই জন চিকিত্সকে। ১১ বছর ধরে অচল অবস্থায় আছে এক্সরে মেশিন। টেকনিশিয়ানের অভাবে প্যাথলজি ল্যাব বন্ধ থাকায় আট বছর ধরে হাসপাতালে হচ্ছে না কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ৫৬টি পদ শূন্য থাকায় এ হাসপাতালে মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিত্সা সেবা পাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ২৫ জন চিকিত্সকের বিপরীতে রয়েছেন দুই জন চিকিত্সক। দুই জন ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের আভ্যন্তরীণ, জরুরি ও বহির্বিভাগে চিকিত্সা সেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শৈল্য), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালটেন্ট অ্যানেস্থেসিয়া, ডেন্টাল সার্জন ও হোমিওপ্যাথিকসহ ২৩ জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া নার্সিং সুপারভাইজর, সিনিয়র স্টাফনার্স চার জন, ফার্মাসিস্ট দুই জন, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি), স্বাস্থ্য পরিদর্শক দুই জন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পাঁচ জন, স্বাস্থ্য সহকারী ১৪ জনের পদসহ বিভিন্ন পদে ৫৬টি পদ খালি রয়েছে। একজন টেকনিশিয়ানের অভাবে আট বছর ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে প্যাথলজি ল্যাব। অপরদিকে, দীর্ঘ ১১ বছর যাবত্ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অত্যাধুনিক এক্সরে মেশিনটি বিকল থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ চরমে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মো. জামাল মিয়া (শোভন) বলেন, প্রতিদিন এ হাসপাতালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০০ রোগী চিকিত্সা নিতে আসেন। এছাড়া হাসপাতালে অর্ধশতাধিক রোগী সবসময় ভর্তি থাকে। এসব রোগীদের চিকিত্সা দেওয়া দুই জন ডাক্তারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।  সবমিলিয়ে ৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডাঃ জি কে সামসুজ্জামান বলেন, শরণখোলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। ৩৯তম  বিসিএস থেকে নিয়োগ দিলে ডাক্তারের সংকট সমাধান হবে। অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।