উখিয়ায় চিংড়ি উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ খামারিদের। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা উখিয়ার চিংড়ি চাষের এলাকা পালংখালীর বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। চিংড়ি ঘেরের জমি ও পানি রোহিঙ্গাদের ফেলা বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
হোয়াইট স্পট রোগে আক্রান্ত বাগদা চিংড়ি গ্রেডে উন্নীত না হওয়ার আগেই মারা পড়ছে বলে জানিয়েছে চিংড়ি খামারিরা। মত্স্য কর্মকর্তা বলছেন, চিংড়ি মাছ রক্ষায় খামারিদের সব ধরনের প্রশিক্ষণ ও উপকরণ দেওয়া হয়েছে। তবে রোহিঙ্গারা যাতে মত্স্য খামারে বর্জ্য অপসারণ করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে।
পালংখালী আব্দুল লতিফ ওয়াকফ স্টেট ঘুরে স্টেটের সদস্য সচিব লতিফ আনোয়ার চৌধুরীর কাছে চিংড়ি ঘেরের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা চিংড়ি ঘেরে বিভিন্ন প্রকারের বর্জ্য ফেলার কারণে চিংড়ি উত্পাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। হোয়াইট স্পট রোগে আক্রান্ত হয়ে মাছের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।
বালুখালীর চিংড়ি চাষি আব্দুল গফুর জানান, তারা পারিবারিকভাবে পেশাদার চিংড়ি চাষি। ২০১৭ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর পালংখালী এলাকায় ব্যাপকভাবে রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে এলাকার চিংড়ি চাষের ধস নেমেছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে একই এলাকার চিংড়ি চাষের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো।
একই এলাকার চিংড়ি চাষি শামসুল আলম জানায়, ব্যক্তিগতভাবে সে প্রতিবছর ১০ একর চিংড়ি ঘেরে চিংড়ি মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উত্পাদন করে থাকেন। কিন্তু রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে ঐ চিংড়ি ঘেরে তাদের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি দূষিত হয়ে দুই মৌসুমে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এভাবে পশ্চিম বালুখালীর চিংড়ি খামারি ফরিদুল আলম বলেন, রোহিঙ্গারা চিংড়ি খামারে বর্জ্য ফেলার কারণে মাছ চাষে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও সফল হতে পারিনি।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা শেখ মো. এরশাদ বিন শাহীন জানান, রোহিঙ্গাদের কারণে রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি উত্পাদন ব্যাহত হলেও স্থানীয় চাষিরা যাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে চিংড়ি ঘেরে বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের প্রতি বিধি-নিষেধ আরোপের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান জানান, চিংড়ি উত্পাদন যাতে ব্যাহত না হয় সে ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের সতর্ক করে দেওয়ার জন্য ক্যাম্প ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
