সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার গ্রামগুলোতে আর দেখা যায় না কূপ বা কুয়া। কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে পানি সংগ্রহের এই আধার। জানামতে, স্বাধীনতার পরেও মানুষ কুয়ার পানিই ব্যবহার করত। রায়গঞ্জের প্রতিটি গ্রামেই একটি বা দুটি করে কুয়া পাওয়া যেত। সেই কুয়াগুলোর পানিই পান করাসহ রান্নার কাজে ব্যবহার হতো। কুয়া খননের পর কোনোটিতে বসানো হতো পোড়া মাটির রিং অথবা পাট। আবার কোনোটিতে গাঁথুনি দেওয়া হতো বাঁশের তৈরি বেতি দিয়ে। এসব কুয়া থেকে পানি সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হতো রশি ও বালতি। প্রতিদিন সকালে বিকালে কুয়াস্থলে আশপাশের গৃহিণীরা দলবেঁধে মাজায় কলস আর হাতে বালতি নিয়ে আসতেন। স্থানটি তখন পাড়ার গৃহিণীদের মিলনমেলায় পরিণত হতো। এখন ঘরে ঘরে টিউবওয়েল বসেছে। বসানো হয়েছে পানি তোলার পাম্প। সত্যিকার অর্থে এখন আর গ্রামে সেরকম কুয়া চোখে পড়ে না। তারপরও উপজেলার দুয়েকটি গ্রামে কুয়া দেখা গেলেও সংস্কারের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। অন্তত স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য হলেও বিষয়টি নিয়ে ভাবতে বলব যথাযথ কর্তৃপক্ষকে।
মো. মোকাদ্দেস হোসাইন সোহান
গ্রামপাঙ্গাসী চানপাড়া, বোয়ালিয়ারচর, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ
