শব্দদূষণ দূর করুন

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৫৯

দৈনিক ইত্তেফাকে গত ২২ সেপ্টেম্বর চিঠিপত্র কলামে প্রকাশিত ‘মাইকিংয়ে শব্দদূষণ’ শিরোনামের চিঠির প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। ঐ চিঠিতে অত্যন্ত সময়োপযোগী সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। আমি আরো কিছু মারাত্মক শব্দদূষণের চিত্র তুলে ধরতে চাই। দেশের গ্রামেগঞ্জে সারা বছর ধরেই বিভিন্ন  অনুষ্ঠান যেমন বিয়ে, জন্মদিন, বিয়েবার্ষিকী, মুসলমানি, পিকনিক, মেলা ইত্যাদিতে তিন-চার দিন ব্যাপী উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্স বাজানো হয়। ঈদের চাঁদ উঠলেই কোনো কোনো এলাকায় একশ্রেণির উচ্ছৃঙ্খল তরুণ-যুবক সাউন্ডবক্স বাজিয়ে নাচানাচি শুরু করে দেয়। আমার পাশের বাসার এক গর্ভবতী মহিলার গর্ভের সাত মাসকালে সাদ খাওয়াতে দুদিনব্যাপী সাউন্ডবক্স বাজানো হলো। সে কী আমোদ ফুর্তি! শব্দদূষণে আশপাশের মানুষের ঘুম তো দূরের কথা, বাসায় থাকাই দায়। বর্তমানে হার্টের রোগীর অভাব নেই—তাদের কী দশা? আবার দেখা যায়, কোথাও কনসার্ট হলে আট-দশটি সাউন্ডবক্স দিয়ে নাচ-গান শুরু হয়। উচ্চমাত্রার এই শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। দু-তিন কিলোমিটার দূর থেকেও এর ভয়াবহতায় সাধারণ মানুষের অন্তরাত্মা কেঁপে কেঁপে ওঠে। কয়েকদিন আগের ঘটনা। আমার পাশের বাড়িতে বিয়ে। দুদিন আগে থেকে শুরু হলো সাউন্ডবক্স বাজানো।  অনুষ্ঠানের পরও দুদিন চলল সেই সাউন্ডবক্স। ভাবতে অবাক লাগে, মানুষের বিরক্তিরও তো একটা সীমা আছে। আমার কথা হচ্ছে, গান যদি বাজাতেই হয়, তবে নিজেদেরই শুধু শোনার জন্য বাজানো হোক—অন্যদের শোনানোর দরকার নেই। মাইকিং বা সাউন্ডবক্সের শব্দদূষণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে রোগী এবং ছাত্রছাত্রী বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের। পরিশেষে, আশা করি—যথাযথ কর্তৃপক্ষ এই মাইক কিংবা সাউন্ডবক্স ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে জনগণকে শব্দদূষণ থেকে মুক্তি দেবেন।

ডি এম সিরাজুল ইসলাম সিদ্দিকী

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ