আধুনিক প্রযুক্তির এবং পরিবেশ সম্মত আবাসনে আগ্রহ বাড়ছে

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০০

একটি সুন্দর, সাজানো ঘরের স্বপ্ন রয়েছে সবার। সেই স্বপ্নে এখন যোগ হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরিবেশ। কারণ একটি বাড়ি কিংবা বাসা এখন শুধুই আবাসস্থল নয়। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নগরবাসীসহ সারাদেশের মানুষের আগ্রহ বাড়ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ, পরিবেশসম্মত, টেকসই ও নিরাপদ আবাসনের দিকে। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০১৯’ উপলক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সোমবার থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘গৃহায়ন মেলা’। এরই মধ্যে জমে উঠেছে এ মেলা।

‘বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার’—এই স্লোগানে এবার বসতি দিবস পালন করছে সরকার। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সোমবার গৃহায়ন মেলার উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে পা রেখেছে। আমরা ২০ তলা ভবন মাত্র ১৩ মাসের মধ্যে নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করেছি। অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, আমাদের আবাসন প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বাসযোগ্য, পরিবেশসম্মত আধুনিক আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

গৃহায়ন মেলার আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় ২৪টি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবারের মতোই নিয়ে এসেছে বিভিন্ন প্রকল্প। এক ছাদের নিচে এ আয়োজনে  ক্রেতাদের যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আজ বুধবার শেষ হতে যাওয়া মেলায় সময় করে একবার ঘুরে আসার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আয়োজকরা বলছেন, হয়ত সাধ্যের মধ্যেই মিলতে পারে স্বপ্নের সেই ঘরের (ফ্ল্যাটের) চাবি। পৃথিবীর বুকে এক টুকরো জায়গার মালিক হয়ে সাশ্রয়ী দ্বিতল ভবন তৈরির কলাকৌশলও জেনে যেতে পারেন আগতরা। ক্রেতাদের সুবিধার্থে মেলায় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ছাড় এবং সহজ কিস্তিতে ফ্ল্যাট নির্মাণ করার সামগ্রী কেনার নানা অফার নিয়ে এসেছে।

এবারের বসতি দিবস ও গৃহায়ন মেলা সম্পর্কে রাজউকের চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাককে বলেন, সারাবিশ্বেই আবাসন মানুষের মৌলিক চাহিদা। তবে বাসাবাড়ি এখন শুধুই বসবাসের জায়গা নয়। এখান থেকে বর্জ্য আকারে যেসব উপাদান বের হয় সেগুলোকে সম্পদে পরিণত করতে হবে। এছাড়া বাড়িঘর নির্মাণে প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরিবেশের বিষয়টিও এখন গুরুত্বপূর্ণ। কম খরচে, কম বিদ্যুত্ ব্যবহার করে কীভাবে অত্যাধুনিক বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব—সেটির ধারণা মিলছে গৃহায়ন মেলায়। তিনি বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক আবাসন নির্মাণের লক্ষ্য নিয়েই এবার বৃহত্ পরিসরে ও জাতীয়ভাবে গৃহায়ন মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মানুষের ব্যাপক আগ্রহও পরিলক্ষিত হচ্ছে মেলায়। যার কারণে আগামীতে আরো বৃহত্ আকারে এই ধরনের মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলামের মতে, নির্মাণ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতেই এ মেলার আয়োজন। পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘস্থায়ী টেকসই নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করাও গৃহায়ন মেলার অন্যতম লক্ষ্য।

হাউজি বিল্ডিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ শামীম আখতার ইত্তেফাককে বলেন, আবাসন নির্মাণের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গৃহায়ন মন্ত্রণালয়াধীন, এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে দেশের মানুষকে পরিচয় করে দেওয়া এ মেলার অন্যতম লক্ষ্য। উদ্বোধনের দিন থেকেই মেলায় মানুষের আগ্রহ দেখে আমরা সন্তুষ্ট।