ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতারকৃত যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট অসুস্থ বোধ (‘বুকে ব্যথা’) করায় গতকাল মঙ্গলবার তাকে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিত্সায় সাত সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার পর গত রবিবার ৬ অক্টোবর সম্রাটকে রাখা হয়েছিল কেরানীগঞ্জে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে সেখান থেকে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
এদিকে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের পরিচালক ডা. আফজালুর রহমান জানিয়েছেন, সকাল থেকে সম্রাটের যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে সেগুলোর রিপোর্ট পজেটিভ। তবে তিনি যেহেতু হূদেরাগে আক্রান্ত তাই আমরা এ ধরনের রোগীদের ২৪ ঘণ্টা ফলোআপে রাখি। সে হিসেবে আজ বুধবার (আগামীকাল) সকালে তার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখনো তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। শঙ্কার কোনো কারণ নেই।
তিনি আরো বলেন, তার চিকিত্সায় ইতিমধ্যে আমরা সাত সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছি। মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান হিসেবে আমি থাকছি। মেডিক্যাল বোর্ডের বাকি সদস্যরা হলেন প্রফেসর মীর জামাল উদ্দিন, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মহসিন আহমেদ, প্রফেসর নাসির উদ্দিন, প্রফেসর কাজী আবুল আজাদ, প্রফেসর আশরাফুল হক সিয়াম ও সার্জারি ডিপার্টমেন্টের প্রধান রাম পদ সরকার।
চিকিত্সকরা জানান, ১৯৯৮ সালে সম্রাটের হূিপণ্ডে একটি ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে আনার পর তার হূত্স্পন্দন স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। তাকে সিসিইউতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সম্রাটকে দেশের বাইরে নেওয়ার দাবি
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) চিকিত্সাধীন সম্রাটকে দেখতে যান তার আইনজীবীরা। সম্রাটের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রধান আইনজীবী হিসেবে আদালতে লড়বেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আফরোজা শাহনাজ পারভীন হীরা। তিনি এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আমাদের ক্লায়েন্ট ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাদের দেখতে দেওয়া হয়নি।
হীরা বলেন, সম্রাটের শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ। গত ১০ সেপ্টেম্বর তার হার্টে পেসমেকার লাগানোর জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠান থাকায় তিনি যেতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে দেশের পরিস্থিতি আপনারা সবাই জানেন। তাকে তো গ্রেফতারই করা হলো।
সম্রাটের এই আইনজীবী আরো বলেন, ৭ অক্টোবর আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে জেলগেটে গিয়েছিলাম। সেখানে অনেক প্রসিডিউর মেইনটেইন করে অনেক কষ্টের পর তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়েছিল। আমরা দেখতে পেয়েছি, তার শারীরিক কন্ডিশন ভীষণ খারাপ ছিল। দূর থেকেই উনি বলছিলেন, তার বুকে ব্যথা। তিনি খুবই অসুস্থ।
আফরোজা শাহনাজ পারভীন হীরা বলেন, সম্রাট সবসময় দেশের বাইরে চিকিত্সা নিয়েছেন। আমরাও দাবি করছি, তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য দেশের বাইরে নেওয়া হোক।
পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে সম্রাটের রিমান্ড আবেদন করবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী হীরা বলেন, আগে তো তার সুস্থতা। রাষ্ট্রের কাছে আমাদের দাবি থাকবে, আগে উনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক। তারপর না হয় রিমান্ডের আবেদন করা যাবে। এমনকি তাকে যদি জেলগেটেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সেখানেও আইনজীবীর উপস্থিতিতে এবং সুস্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখেই যেন তা করা হয়, আমরা এটুকু অনুরোধ রাখব সবার প্রতি।
সোমবার রমনা থানায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করে র্যাব। তাকে দুই মামলায় ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন করে রমনা থানা পুলিশ। আজ বুধবার রিমান্ড শুনানির জন্য সম্রাটকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে। তার আগেই অসুস্থতার কারণে গতকাল মঙ্গলবার সম্রাটকে হাসপাতালে নেওয়া হলো।
