দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পারাপারের অপেক্ষায় শত শত বাস

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৪৫

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে তীব্র স্রোতে টানা এক সপ্তাহ ধরে ফেরি চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জনদুর্ভোগ কমাতে এ নৌরুট দিয়ে শুধু যাত্রীবাহী যানবাহন পারাপারের কথা থাকলেও অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে পণ্যবাহী ট্রাক ফেরিতে উঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকে আছে শত শত যাত্রীবাহী বাস। এতে দৌলতদিয়া মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়ছে বলে জানা গেছে। এ নৌরুটে মোট ১৬টির মধ্যে বর্তমানে মাত্র সাতটি ফেরি চলাচল করতে পারছে। এদিকে পদ্মার তীব্র সে াতে ঘাট এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত আছে।

সরেজমিন গতকাল মঙ্গলবার দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত অন্তত সাড়ে ৩ কিলোমিটার যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ সারি। এর মধ্যে অসংখ্য নৈশকোচ সোমবার রাতে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় সিরিয়ালে আটকা পড়ে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ফেরির নাগাল পায়নি। সিরিয়ালের ফাঁকে ফাঁকে কিছু পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দেখা যায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা থাকার কথা নয়। এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ঘাট পরিদর্শন করতে এসে ফেরিতে উঠতে যাওয়া ট্রাকটি ঘুরিয়ে দিতে নির্দেশ দেন।

একাধিক বাসচালক অভিযোগ করেন, নদী পারাপার হতে এসে প্রতিটি বাসের অন্তত ১০/১২ ঘণ্টা সিরিয়ালে আটকে থাকতে হচ্ছে। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ যেখানে পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখানে কিছু অসাধু ট্রফিক পুলিশ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দু-একটি ট্রাককে ফেরিতে উঠার সুযোগ করে দিচ্ছে।

এদিকে, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত আছে। চরম ভাঙন আতঙ্কে আছে দৌলতদিয়ার সবকটি ফেরি ঘাট।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, গুরুতপূর্ণ এ নৌরুটে মোট ১৬টি ফেরির মধ্যে বর্তমানে মাত্র সাতটি ফেরি চলাচল করতে পারছে। যে ফেরিগুলো চলছে সেগুলোরও প্রতি ট্রিপে কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে। এতে করে যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না।

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্তব্যরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল হোসেন গাজী জানান, সিরিয়ালের মধ্যে যদি কোনো পণ্যবাহী ট্রাক থাকে সেটিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি দাবি করেন, যে ট্রাকটি ফেরিতে উঠার সময় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে ঐ ট্রাকটি প্রশ্নপত্র আনতে ঢাকায় যাচ্ছিল।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলশাদ বেগম জানান, দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া ফেরিঘাটটি চরম ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে যান পারাপার স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ আন্তরিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।