বুয়েট-ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহাকে নিয়ে ধূম্রজাল

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৪৬

আবরার হত্যার ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর বুয়েট ছাত্রলীগের একজন নেতার নাম সবার মুখে মুখে। এই নেতাকে মামলায় আসামি করা হয়নি। তার নাম অমিত সাহা। তিনি বুয়েটের ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপসম্পাদক ও পুরোকৌশল বিভাগের ছাত্র।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আবরারকে যে কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, সেই কক্ষের আবাসিক ছাত্র অমিত সাহা। শের-ই-বাংলা হলের নিচ তলায় ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন আবরার। ঘটনার সময় অমিত সাহা আবরারকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে আসেন। আবরারের হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে অমিত সাহা ফেসবুক আইডি চেক করেন। আবরারের ফেসবুকে ভারত বিরোধী স্ট্যাটাস দেখে তাকে শিবির বলে দোষারোপ করেন। এরপরই ঘটনা ঘটে।

লালবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের নামের তালিকায় অমিত সাহার নাম না থাকায় একজন শিক্ষার্থী বলেন, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে আসামি ঠিক করে আবরারের বাবাকে দিয়ে এই মামলা দায়ের করিয়ে নিয়েছে।

তবে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন, ঘটনার দুই দিন আগে অমিত সাহা পূজার ছুটিতে বাড়ি চলে গেছে। এ কারণে তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি।

ঘটনার সময় ২০১১ নম্বর কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আশিকুল ইসলাম বিটু। তিনি জানান, ‘রবিবার রাত ৮টার দিকে আবরার ফাহাদকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডাকা হয়। আমি মাঝে মাঝে ঐ কক্ষে বন্ধুর কাছে যাই। রাতে গিয়ে দেখতে পাই, সেখানে আবরার ফাহাদের ফেসবুক আইডি ও মেসেঞ্জার চেক করা হচ্ছে। রাত পৌনে ৯টার দিকে আমি কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসি। পরে সেখানে কী হয়েছে, আমি জানি না। নিজের কক্ষে গিয়ে পড়াশোনা ও আড্ডা দিয়ে রাত ১টার দিকে ঐ কক্ষে রেখে আসা নিজের ল্যাপটপ ও বই আনতে গেলে আবরারকে পড়ে থাকতে দেখি। তখন সেখানে আর কেউ ছিল না।’

অমিত সাহা সম্পর্কে এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই উল্লেখ করে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘মামলায় আসামিদের নামের তালিকা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাই দিয়েছেন। তাদের দেয়া নামের তালিকা অনুযায়ী মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ কোনো তালিকা দেয়নি। পুলিশের তদন্তে তালিকার বাইরে কেউ যদি জড়িত থাকেন—তাদের গ্রেফতার করা হবে।