ভারতকে বোঝার মতো প্রসারতাই নেই মোদির :অমর্ত্য সেন

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০৭

ভারতে গণতন্ত্রের হাল নিয়ে উদ্বিগ্ন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। একটি মার্কিন পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে খোলাখুলিই সেই কথা জানিয়ে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এর জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতকে বোঝার প্রসারতা প্রধানমন্ত্রী মোদির নেই। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার

অমর্ত্য সেন বলেন, জন স্টুয়ার্ট মিলের কাছ থেকে বড়ো যে বিষয়টি আমরা জেনেছি তা হলো-‘গণতন্ত্র মানে আলোচনার ভিত্তিতে চলবে সরকার। ভোট যেভাবেই গণনা করো, আলোচনাকে ভয়ের বস্তু করে তুললে তুমি গণতন্ত্র পাবে না। তার আক্ষেপ, ভারতে এখন কট্টর হিন্দুত্বের দাপট। প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে তার মূল্যায়ন, বহু ধর্ম ও বহু জাতির দেশ ভারতকে বোঝার মতো মনের প্রসারই নেই মোদির।

অমর্ত্যের মতে, মোদির সচেয়ে বড়ো সাফল্য হচ্ছে গোধরা মামলা থেকে নিজেকে মুক্ত করা। এর ফলে ২০০২ সালের যে ঘটনায় হাজারের বেশি মানুষ খুন হয়েছিলেন তার পেছনে মোদির একটা ভূমিকা ছিল বলে ভারতে অনেকে বিশ্বাসই করেন না। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভটির প্রসঙ্গে অমর্ত্যের খেদ হলো-সরকার যদি বিরুদ্ধে থাকে, তাহলে কেবল সরকারি নয়, সম্ভবত অনেক বেসরকারি বিজ্ঞাপনও পায় না সংবাদমাধ্যম। ফলে স্বাধীন সংবাদপত্র বা সংবাদ চ্যানেল পাওয়াই দুষ্কর। স্টুয়ার্ট মিলের প্রসঙ্গ টেনে অমর্ত্য বলেন, ‘মানুষ ভয়ে আছে। এটা আগে কখনো দেখিনি। আমার সঙ্গে ফোনেও সরকারের সমালোচনার প্রসঙ্গ উঠলে অনেকে বলছেন, থাক, দেখা হলে বলব। আমি নিশ্চিত ওরা আমাদের কথা শুনছে। এটা গণতন্ত্রের পন্থা নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কী চায়, সেটা বোঝারও পথ নয় এটা।’ তবে পুরোপুরি হতাশ নন অমর্ত্য সেন। তিনি বলেন, সবকিছুই হারিয়ে যায়নি। এখনো সাহসী কয়েকটি সংবাদপত্র আছে, যারা ঝুঁকি নিয়ে কিছু ছাপতে ভয় পায় না। দু-একটা টিভি চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশনও আছে। প্রকাশ্য সভাও হচ্ছে কিছু। ভারতের কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রীয়। বেশ কটি রাজ্যে বিজেপিই একমাত্র প্রভাবশালী শক্তি নয়।