কানাডায় আটক চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মেং ওয়াংঝুয়ের জামিন শুনানির কথা ছিল স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার। কিন্তু এর আগেই খবর পাওয়া গেছে, চীনে কানাডার সাবেক এক কূটনীতিককে আটক করা হয়েছে। দু’টি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চীন হুমকি দিয়েছিল, মেং ওয়াংঝুকে মুক্তি না দিলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে কানাডাকে। এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৪ ঘন্টা নজরদারির শর্তে মেং ওয়াংঝু জামিন নিতে পারেন। এমনকি তার শরীরে একটি চিপও লাগিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর রয়টার্স ও বিজনেস ইনসাইডারের
কানাডার কূটনীতিকের আটকের ঘটনা মেং ওয়াংঝুয়ের আটকের সঙ্গে জড়িত কিনা সেই বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। তবে কানাডার এক বিশ্লেষক দাবি করেছেন, চীন প্রতিশোধ হিসেবেই এই কাজটি করেছে। চীনে আটক কূটনীতিকের নাম মাইকেল কভরিগ। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের হয়ে কাজ করছেন। কানাডার কর্মকর্তারা কূটনীতিকের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং জননিরাপত্তা বিভাগও এই বিষয়ে তাত্ক্ষনিক কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গতকাল তৃতীয় দিনের মতো মেং ওয়াংঝুয়ের জামিন আবেদনের শুনানি চলছে। ব্রিটিশ কলম্বিয়া কোর্টের বিচারক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তাকে জামিন আবেদন দেওয়া হবে না কী যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে সোমবার কানাডার প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মেং ওয়াংঝুয়ের জামিন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়ে শুনানি মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত স্থগিত করেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, চীনে কানাডার ব্যবসায়ীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। চীনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি স্থগিত হয়ে গেছে। মার্কিন অনুরোধে সাড়া দিয়ে কানাডার পুলিশ গত ১ ডিসেম্বর মেং ওয়াংঝুকে আটক করে। কানাডা এই কর্মকর্তাকে মার্কিন সরকারের কাছে হস্তান্তরের চিন্তা করছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। মেং ওয়াংঝু হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট রেন ঝেংফেইয়ের মেয়ে। ওয়াশিংটন দাবি করছে, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন করছেন ওয়াংঝু।
