রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি লটারি প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য জালিয়াতি ও দুর্নীতি প্রতিরোধে গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন-১০৬) আগত অভিযোগের ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ও মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে এ অভিযান চালায় দুদক টিম। দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ ফারুক আহমেদ এবং উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলামসহ দুদকের পুলিশ ইউনিটের সদস্যবৃন্দ এ অভিযানে অংশ নেয়।
জানা গেছে, রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে সর্বমোট ৮৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। মতিঝিল ও বনশ্রী শাখায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে এবং মুগদা শাখায় শুধু বাংলা ভার্সনে বালক ও বালিকা পৃথক ক্যাটাগরিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হবে। এর মধ্যে গত সোমবার ৬টি ক্যাটাগরির লটারি অনুষ্ঠিত হয় এবং গতকাল মঙ্গলবার অবশিষ্ট ৪টি লটারি অনুষ্ঠিত হয়।
দুদক সূত্র জানায়, লটারির এ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে দুদক টিম গতকাল সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আইডিয়াল স্কুলে অবস্থান করে। এ সময় অনুষ্ঠিত লটারির ফলাফল পেন্সিলের পরিবর্তে বলপেন/অমোচনীয় কালি দিয়ে লেখা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে বালক ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত তালিকার পাশাপাশি অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ নিশ্চিত করা হয়। ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের অনিয়ম বন্ধে রাজধানীর মতিঝিল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেয় দুদক টিম। দুদক টিমের উপস্থিতিতে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ দিকে আসন্ন ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ জন শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ফরম পূরণের সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করার অভিযোগে গত ৫ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ ফজলুল বারী ও উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ আতাউর রহমান সরকার সমন্বয়ে গঠিত একটি এনফোর্সমেন্ট টিম সেখানে অভিযান চালায়। দুদক টিমের অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত হিসেবে নেয়া ৮৩ হাজার ৪শ টাকা গত সোমবার শিক্ষার্থীদের নিকট ফেরত দেয়া হয়। দুদকের নির্দেশে ও মনোহরদীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিক হাসানের উপস্থিতিতে এ অর্থ ফেরত দেয়া হয়।
এ অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়কারী দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ভর্তি পরীক্ষাকে দুর্নীতির অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে দুদক কঠোরভাবে নজরদারি করছে। শিক্ষা খাতে সংক্রমিত দুর্নীতি পর্যায়ক্রমে দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুদকের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
