ফাউজুল কবির

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:২৫

প্রশংসার আগে

 

প্রশংসার আগে তুমি একবার নিবিষ্ট মনে ভাবো

কতটা জরুরি এই—উল্লসিত বাক্য বিনিময়

কার প্রাপ্য কতটুকু কাকে দিচ্ছ উপহার—যাব

কতটুকু কার সাথে সঙ্গী হবো কতটা সময়?

সময়েরা কিরিচের চেয়ে নির্মম ধারালো। মুখ

থেকে নির্গত ভাষণ শব্দ বাক্য ধ্বনি মেপে দেখো

কতটা ওজন তার—শত্রু-মিত্র সুখ ও অসুখ

তৈরি করে সে নিজেই—চেতনাকে নিজ হাতে রেখো।

কতটা ঝরাবে রক্ত! ঝরানো কতটা প্রয়োজন

এ হিসাব কে মিলাবে? ইতিহাস আঁকাবাঁকা চলে

মন ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব খেলে নিত্য তুরুপের তাস।

কখনো এমন ঘটে ব্যর্থ করে সব আয়োজন

আশা আর ভরসার স্বপ্ন মরে যায় মন্ত্র বলে

অগ্নির ভেতরে অগ্নি জ্বলে—লেখা হয় পরিহাস।

 

 

 

রবীন্দ্রনাথ জানতেন

 

তোমার প্রেক্ষণবিন্দু সৃষ্টি করে বিশিষ্ট সুখের

ব্যঞ্জনা। এ কথা তুমি জানো আর জানি শুধু আমি

জীবনের কত পাতা ঝরে পড়ে বিকেলে—আগামী

দিবসের প্রতিশ্রুতি হাওয়ায় ভাসিয়ে—সম্মুখের

দিকে টেনে নিয়ে যায়—বলে দেখ বিদগ্ধ দুঃখের

ভেতর অন্তর্স্বভাবী থাকে গূঢ় শিল্পের মহিমা।

‘শেষের কবিতা’ শিল্প বটে, তার বাণীর গরিমা

আকাশ না ছুঁয়ে একা মেঘ হয়ে ওঠে হূদয়ের।

 

রবীন্দ্রনাথ জানতেন জীবনের গদ্যের মনন

সমস্ত দ্বন্দ্বকে করে অতিক্রম খোঁজে কাব্য-ব্যক্তি

খোঁজে সীমার ভেতরে অসীমের মুক্ত খেলাধুলা

অন্তর্গত বিস্ময়েরা আলো-জলে তোলে আলোড়ন

বিভূতি ও অনুভূতি এঁকে যায় বোধ শব্দ-শক্তি

প্রেম আর ভালোবাসা রূপান্বিত অন্তরে-বেভুলা।