সদ্য ক্যাম্পাসে পা রাখা ছেলেটাও ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করে ক্ষমতার দাপট দেখায়। নিজের পছন্দ অনুযায়ী দলীয় ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পড়ে। অঙ্কুরিত স্বপ্নগুলোকে চাপা দিয়ে ছাত্ররাজনীতির নামে ক্ষমতার অপব্যবহারে মেতে ওঠে। শিক্ষাঙ্গনে একাধিক ছাত্ররাজনীতির সংগঠনগুলো নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করে। অনেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে মাদকের মতো মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে যায়। বিভিন্ন ঘটনাকে ইস্যু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে। এই দাঙ্গা-হাঙ্গামার কবলে পড়ে অকালে প্রাণ হারায় অনেকে। শিক্ষাঙ্গনে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা, শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি হয়। ফলে সেশনজটের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় শিক্ষার্থীদের। তাদের ক্ষমতার দাপটে শিক্ষকসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবসময় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে। বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ খুন হলো। দেখা যায়, আবরার ফাহাদের খুনের সঙ্গে জড়িত প্রায় সবাই ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস বিশেষণ করলে দেখা যায়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনগুলো তাদের ক্ষমতার দাপট দিয়ে শিক্ষাঙ্গনগুলোকে উত্তপ্ত করে রাখে। তাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলব, শিক্ষাঙ্গনকে ছাত্ররাজনীতির করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করুন। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করুন।
মো. আল আমিন হোসেন
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
