দিনের খেলা একটু আগেভাগেই শেষ হয়ে গেল। আলো কমে যাওয়ায় খেলোয়াড়রা যখন সাজঘরে ফিরলেন তখনো চার ওভার পাঁচ বল খেলা বাকি। ভারতের স্কোর তিন উইকেটে ২৭৩ রান। বলা যায়, পুনের প্রথমদিনটা লেখা হলো স্বাগতিকদের নামেই।
আর এই দিনের নায়ক হলেন গেল টেস্টের ‘সাইড-নায়ক’ মায়াঙ্ক আগারওয়াল। বিশাখাপত্তনমের প্রথম ইনিংসে তিনি ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। কিন্তু, তাকে ছাপিয়ে পুরোটা আলো কেড়েছিলেন রোহিত শর্মা। কারণ, রোহিত টানা দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি গড়েছেন। তবে, রোহিত পুনের প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হওয়ায় বিশাখাপত্তনমের সেই ডাবল সেঞ্চুরিয়ানই এককভাবে আলো ছড়ালেন প্রথম দিনে।
তরুণ এই ওপেনারের ব্যাটেই আবারও নিজেদের মতো একটা দিন কাটাতে পারল ভারত। ষষ্ঠ টেস্ট খেলতে নেমে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান পেয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তিনি ১০৮ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন ক্যাগিসো রাবাদার বলে। ১৯৫ বলের ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও দুটি ছক্কা। সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ১৮৩তম বলে।
এর আগে ভারতীয় ওপেনারদের মধ্যে সর্বশেষ টানা দুই টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন বীরেন্দ্র শেবাগ। সেটা ২০০৯-১০ মৌসুমের কথা। এর প্রায় ১০ বছর পর তার পুনরাবৃত্তি করলেন মায়াঙ্ক।
মায়াঙ্ক দিনের খেলা শেষে বলেন, ‘পরপর দুই টেস্টে সেঞ্চুরি পাওয়াটা আমার জন্য দারুণ একটা ব্যাপার। দল ভালো একটা অবস্থায় আছে এখন। আমরা টসে জিতেছি। আর সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বোর্ডে রান জমা করতে পেরেছি। এমন কিছু সময় ছিল, যখন রান করাটা সহজ ছিল না। ওরা বেশ ভালো বল করছিল। কিন্তু, ঐ সময়টায় আমরা মানসিকভাবে শক্ত ছিলাম। আমি মনে করি এই উইকেটে ৪৫০-৫০০ রান করলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বেশ চাপে ফেলা যাবে।’
প্রথম দিনে ভারত টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২৫ রানে সাজঘরে ফিরে যান রোহিত শর্মা (১৪), তাকেও ফেরান রাবাদা। দ্বিতীয় উইকেটে চেতেশ্বর পূজারার সঙ্গে মিলে ১৩৮ রান যোগ করেন মায়াঙ্ক। পূজারা ফেরেন ৫৮ রান করে। এবারও উইকেটশিকারী প্রোটিয়া পেসার রাবাদা। ১৯৮ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন মায়াঙ্ক। দিনের বাকিটা সময় কোনো বিপদ ছাড়াই কাটিয়ে দিয়েছেন বিরাট কোহলি ও আজিঙ্কা রাহানে। বিরাট ৬৩ ও রাহানে ১৮ রানে অপরাজিত আছেন।
