ঘোরতর দুর্দিনে পাকিস্তান ক্রিকেট

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৭

কে জানতো, দেশের মাটিতে দ্বিতীয় সারির শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমনভাবে নাজেহাল হবে পাকিস্তান দল! শীর্ষ ক্রিকেটারদের ছাড়াই প্রতিপক্ষের মাটিতে খেলতে নেমে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এক নম্বর দলকে কেবল সিরিজেই হারায়নি শ্রীলঙ্কা, তিনটি ম্যাচই জিতে নিয়ে দিয়েছে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এবারই প্রথম পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল লঙ্কানরা।

সিরিজটা এক ম্যাচ আগেই নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ম্যাচটা গত বুধবার রাতে তাই ছিল স্রেফ নিয়মরক্ষার। যদিও, পাকিস্তান নিজেদের আত্মসম্মান রক্ষায় মরিয়া হয়েই মাঠে নামে, যদিও তাতে কোনো লাভ হয়নি। ১৩ রানের হারে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবতে হয়েছে সরফরাজ আহমেদের দলকে।

অধিনায়ক সরফরাজ ম্যাচ শেষে জানালেন চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি তার দল। বললেন, ‘ব্যাটিং অর্ডারে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। একাদশেও কিছু পরিবর্তন ছিল। আমরা ম্যাচটা জিততে মরিয়া ছিলাম। আসলে এখন আমাদের যা অবস্থা তাতে তিন বিভাগের সবগুলোতে উন্নতি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। একই সাথে মাঝের ওভারগুলোতে ব্যাটিংটাও ঠিক করে ফেলতে হবে।’

শেষ ম্যাচে অবশ্য জয়ের সুযোগটা বেশি ছিল পাকিস্তানের। শ্রীলঙ্কা সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া বিশ্রামে রেখেছিল নুয়ান প্রদীপ-সহ শীর্ষ কয়েকজন ক্রিকেটারকে। তবে, পাকিস্তানকে চমকে দিয়ে অভিষেক টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই ঝড় তোলেন ওশাদা ফার্নান্দো।  ৪৮ বলে তিনটি ছক্কা ও আটটি চারে ৭৮ রান করেন।

১৪৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ছয় উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানে থামে পাকিস্তান। হারিস সোহেল করেন ৫২ রান। কিন্তু, তার জন্য খেলেন ৫০টি ডেলিভারি। বাবর আজমও তাই। তিনি ৩২ বল খেলে করেন ২৭ রান। চার ওভার বোলিং করে মাত্র ২১ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন লঙ্কান লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। তার হাতেই উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের এখন ঘোরতর দুর্দিন। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর দেশের ক্রিকেটকে চাঙ্গা করতে অবশ্য চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।  কোচিং স্টাফ দলের ভোল পালটে ফেলা হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোতে এসেছে বিস্তর পরিবর্তন। কিন্তু, এই সব চেষ্টায় পানি ঢেলে দিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা।

এই লজ্জায় দায় স্বীকার করে নিয়েছেন মিসবাহ উল হক। তিনি বলেন, ‘ওরা আমাদের প্রতিটা বিভাগে হারিয়েছে। ওরা প্রতিটা ম্যাচেই প্রায় একতরফা জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। আর এটা আমাদের অনেক প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে, যার উত্তরগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। অবশ্যই আমারা খুব বাজে ক্রিকেট খেলেছি। আর অবশ্যই এই দায়টা আমিই নিচ্ছি। আসলে কি হলো, সেটা আমি ভেবেই পাচ্ছি না। এই দলটাই তো অনেকদিন ধরে এই ফরম্যাটের এক নম্বরে আছে।’