আর্জেন্টিনা স্বাগতিক জার্মানির বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে শুরুতেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড়দের দারুণ নৈপুণ্যে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। জার্মানীর মাঠে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ স্মৃতি বেশ সুখকর। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর নিজেদের প্রথম প্রীতি ম্যাচে ডুইসেলডর্ফে তত্কালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৪-২ গোলে হারিয়েছিল লিওনেল মেসি-হীন আর্জেন্টিনা। নিষেধাজ্ঞার কারণে এবারও মেসি ছিলেন না আকাশি-সাদা শিবিরে। তবে বুধবার রাতে ডর্টমুন্ডের সিগন্যাল ইদুনা পার্কের ম্যাচে শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির শিষ্যদের। ১৫তম মিনিটে সের্জ গনাব্রির দারুণ এক গোলে এগিয়ে যাওয়া জার্মানী সাত মিনিট পর কাই হাভার্টজের লক্ষ্যভেদে ব্যবধান বাড়ায় কোচ জোয়াকিম লোর দল। এর আগে-পরে আরো কয়েকবার আলবিসেলেস্তে রক্ষণ ভেঙেছিল স্বাগতিক দলটি। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতা আর আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক অগাস্তিন মার্চেসিনের দক্ষতায় দুই গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় জার্মানি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি খেলোয়াড় বদলই পাল্টে দেয় ম্যাচের দৃশ্যপট। মার্কোস আকুনইয়া, লুকাস ওক্যাম্পোস ও লুকাস আলারিওর অবদানেই ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্ক্যালোনির শিষ্যরা। ৬৬ মিনিটে আকুনইয়ার ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে সফরকারীদের ম্যাচে ফেরান আলারিও। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ওক্যাম্পোসের সমতাসূচক গোলটিতেও ছিল তারই অবদান। প্রতিপক্ষের মাঠে দলের লড়াকু ড্রয়ের কারিগর আলারিও জানান জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামলে সর্বস্ব দিয়েই চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আমাকে মাঠে নামানো হয়েছিল এবং নিজের সেরা চেষ্টাটাই করতে বলা হয়েছিল। যখনই আমাদের মাঠে নামানো হয়, তখন জার্সির সম্মান রক্ষার জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে খেলতে হবে। তাহলেই আবারও মাঠে নামার সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
আর্জেন্টিনার হয়ে পঞ্চম ম্যাচে খেলতে নামা এই খেলোয়াড় আরো যোগ করেন, ‘ম্যাচে আপনি এক মিনিট খেলুন কিংবা দশ মিনিট, প্রতিটি মুহূর্তেই আপনাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং উত্কণ্ঠাটা প্রকাশ করতে হবে। আপনার আগ্রহ আর মনোভাব দিয়েই কোচের জন্য কাজটা কঠিন করে তুলতে হবে।’
খেলোয়াড় বদলি প্রভাব ফেলেছে স্বাগতিক দলেও। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা রক্ষণে ত্রাস ছড়ানো গনাব্রিকে দ্বিতীয়ার্ধে তুলে ফেলা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন লো। তবে তিনি জানালেন ইউরো বাছাইকে মাথায় রেখেই বায়ার্ন মিউনিখ ফরোয়ার্ডকে তুলে নিয়েছিলেন কোচ। লোর ভাষ্য, ‘প্রথমার্ধে আর্জেন্টাইন রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত রাখছিল সে। পরের ম্যাচগুলোতেও তাকে প্রয়োজন আমাদের। আর তাকে মাঠে রাখাটা আমার জন্য বড়ো ঝুঁকি হয়ে যাচ্ছিল কেননা পরের দিকে ইনজুরিতেও পড়তে পারত সে।’
