চৌগাছার ৫০ শয্যা মডেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার ও জনবল সংকটে চিকিত্সাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন ডাক্তারের স্থলে আছেন ১০ জন। এখানে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি, মেডিসিন, শিশু, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, ইএনটি, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ, সহকারী সার্জন, ইএমও, নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্স তিন জন, তৃতীয় শ্রেণির ৭১ জনের মধ্যে ৩১ জন, চতুর্থ শ্রেণির ২২ জনের মধ্যে ১০ জনের পদ শূন্য রয়েছে। এদিকে চারটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চার জন মেডিক্যাল অফিসারসহ ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া সাতটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ১৪ পদের মধ্যে সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। প্রতিটি বিভাগ চলছে জোড়াতালি দিয়ে। সেবাবঞ্চিত হচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। গর্ভবতী মায়েদের নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবার এ প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত রোগীর ভারে ভারাক্রান্ত।
এক সময় স্বাস্থ্যসেবায় মডেল বলে খ্যাত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম-যশ স্বাস্থ্য বিভাগসহ দেশ-বিদেশে নজর কাড়তে সক্ষম হয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও নজরে আসে। ফলশ্রুতিতে ২০১০ সালে এ সংস্থার মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যান চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে আসেন। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি টিম স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। তারা স্বাস্থ্যসেবা দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেন। স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম চললেও বর্তমান জনবলের অভাবে সমস্যায় জর্জরিত গৌরবদীপ্ত মডেল এ প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৯৪ সালের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ছয় শয্যার পরিবর্তে চৌগাছা-যশোর সড়কের পাশে ৩১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ১৯৯৬ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. আব্দুল মান্নান ডাক্তার ইমদাদুল হক, ডা. আব্দুর রাজ্জাক ও ডা. সেলিনা বেগম যোগদান করেন। মূলত এই চার জন ডাক্তারের যৌথ পরিকল্পনা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে শুরু হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মডেল কার্যক্রম। জাপানি সংস্থা জাইকা পরবর্তীতে ইউনিসেফের সহযোগিতায় ও যশোর ফাতেমা হাসপাতালের আদলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো হয়। চারটি বিভাগে গর্ভবতী মহিলা ও পুরুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। পরবর্তী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদ রানা জানান, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ৩২ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩১ জনের মধ্যে ২৫ জন, তৃতীয় শ্রেণির ১১২ জনের মধ্যে ৭৬ জন, চতুর্থ শ্রেণির ২৬ জনের মধ্যে ১৩ জন কর্মরত আছেন। ফলে কর্মরত চিকিত্সকরা রোগীদের চিকিত্সাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহায়তা ও আর্থিক অংশগ্রহণে মডেল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে।
