সিরিয়ায় তুর্কি-কুর্দিদের তুমুল লড়াই, নিহত ১০৯

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৭

সিরিয়ায় তুর্কি বাহিনীর সঙ্গে বিরোধী কুর্দিদের তুমুল লড়াই চলছে। গত দু্ই দিন ধরে লড়াইয়ে অন্তত ১০৯ জন নিহত হয়েছেন যাদেরকে কুর্দি জঙ্গি বলে অভিহিত করেছে তুরস্ক। বোমা হামলার মধ্যে জীবন বাঁচাতে অন্যত্র পালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এরই মধ্যে ইউরোপে শরণার্থীর বন্যা বয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

তুরস্ক দাবি করেছে, তারা কুর্দি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকা দখল করেছে। ১০৯ কুর্দি জঙ্গি বোমা হামলায় নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তুর্কি বাহিনী। তবে কুর্দি বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় অনেক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ২৩ কুর্দি বাহিনী, ৮ জন বেসামরিক নাগরিক এবং তুর্কি সমর্থিত সিরিয়ার বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনটি জানিয়েছে, বুধবার হামলার পর থেকে ৬০ হাজারের মতো মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস আল-আইন এবং ডারবেসিয়া শহর।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গতকাল অভিযানের মাত্রা আরো বাড়িয়েছে তুর্কি বাহিনী। তুর্কি সেনাবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা কুর্দিদের বিভিন্ন স্থাপনা, অস্ত্রাগার এবং সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছেন। আর কুর্দি বাহিনী এসডিএফ জানিয়েছে, তারা তুরস্কের সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধ করছেন।

তুর্কি অভিযানের সমালোচনা করেছে সৌদি আরব ও মিশর। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সমালোচনাকারী দেশগুলোর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যারা এই হামলাকে দখলদারিত্ব বলবে তাদের দেশে শরণার্থীদের বন্যা বইয়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশকে সিরীয় শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। না হলে সেখানে প্রচুর শরণার্থী পাঠানো হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেদের সৈন্য প্রত্যাহারের পরই অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয় তুরস্ক। বুধবার সন্ধ্যা থেকেই হামলা চালানো হয়। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠী এসডিএফকে তুরস্ক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসাবে বিবেচনা করে। তুরস্কের ভয়, এসডিএফ তুরস্কের অভ্যন্তরে তত্পর কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উস্কানি দিচ্ছে। তুরস্ক ৪৮০ কিলোমিটার সীমান্তজড়ে সিরিয়ার অভ্যন্তরে ৩২ কিলোমিটার পর্যন্ত একটি নিরাপদ এলাকা তৈরির পরিকল্পনা করেছে।