কুমিল্লা সীমান্তে ভারতীয়দের হাতে তিন র্যাব সদস্যসহ পাঁচ জন আটক

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৮

কুমিল্লা সীমান্তে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে গিয়ে র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর তিন সদস্য ও দুই নারী সোর্সসহ পাঁচ জনকে আটক করে বিএসএফ এর কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় নাগরিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক পাঁচ জন হচ্ছেন—কনস্টেবল আবদুল মতিন, কনস্টেবল রিগেন বড়ুয়া, সৈনিক ওয়াহেদুল ইসলাম এবং দুই নারী সোর্স লিজা ও তার খালা। পরে দিনভর চিঠি চালাচালি করে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক শেষে আটকের ১০ ঘণ্টা পর তাদেরকে আহত অবস্থায় হস্তান্তর করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মুহিতুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তাদের একটি দল বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা থেকে আশাবাড়ি এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযানে যায়। এসময় মাদক চোরাকারবারিদের ধাওয়ার একপর্যায়ে র্যাবের কয়েক সদস্য অসাবধানতাবশত ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। এতে ভারতীয় নাগরিকরা তাদেরকে আটক করে বিএসএফ এর নিকট হস্তান্তর করে। স্থানীয় বিজিবি ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, র্যাব এর দলটি সকালে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্ত লাগোয়া ভারতের সিপাহীজালা জেলার (উত্তর ত্রিপুরার) বক্সনগর থানার রহিমপুর গ্রামের দুলা মিয়ার ছেলে প্রবাস ফেরত আবুল খায়েরকে আটক করে। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ২টায় আবুল খায়েরের মা ফিরোজা বেগম মৃত্যুবরণ করেন। ভারতীয় নাগরিক আবুল খায়েরকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকরা উত্তেজিত হয়ে র্যাবের উপর চড়াও হয়। এসময় ভারতীয় নাগরিকরা র্যাবের তিন সদস্য এবং তাদের সঙ্গে থাকা দুই নারী সোর্স লিজা ও লিজার খালাকে আটকপূর্বক বেধড়ক মারধর করে তাদের ব্যবহূত একটি পিস্তল, সাতটি বুলেট ও অন্যান্য সামগ্রীসহ ভারতীয় বিএসএফ এর নিকট হস্তান্তর করে।

এ বিষয়ে সীমান্তের বিজিবির সংকুচাইল বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার নুরুল ইসলাম জানান, মুক্তি পাওয়া পাঁচ জনকে খুব অসুস্থ দেখাচ্ছিল।