রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে বাবা-মাসহ কলেজপড়ুয়া ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বিকালে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৫ নম্বর সড়কের ১০/১ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন—বাবা মো. বায়েজদী (৪৭), মা কোহিনূর বেগম অঞ্জলী (৪১) ও ছেলে ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্র ফারহান (১৭)। কাফরুলের স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম সরকারে পুত্র বায়েজীদ।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, যে ফ্ল্যাট থেকে তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেটি অঞ্জনার ফ্রান্সপ্রবাসী বোন রিনার। সেখানে কয়েক বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তারা। বায়েজীদের স্ত্রী অঞ্জনাও কাফরুলের স্থায়ী বাসিন্দা। বায়েজীদ প্রেম করে অঞ্জনাকে বিয়ে করেন। কিন্তু বায়েজীদের বাবা আবুল কাশেম সরকার তাদের বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। ফলে বিয়ের পর থেকেই বায়েজীদ পরিবার বিচ্ছিন্ন ছিলেন। এলাকাবাসী বলেন, মো. বায়েজীদ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করতেন। ব্যবসার কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো ব্যবসাতেই লাভ করতে পারেননি। ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বায়েজিদের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা করে। এ নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন বায়েজিদ।
বাড়ির কেয়ারটেকার আব্দুল জলিল জানান, প্রায়ই বিভিন্ন লোকজন পাওনা টাকা চাইতে বায়েজীদের বাসায় আসত। মাঝে মধ্যে ব্যাংকের লোকজন আসত। আজ (গতকাল) সকালে তিন-চার জন লোক এসেছিল বায়েজীদের সঙ্গে দেখা করতে। সর্বশেষ আজ (গতকাল) বিকালে বায়েজীদের এক বন্ধু তার তার খোঁজে আসে। কিন্তু দরজা বন্ধ পেয়ে ফিরে যায়। এরপর বায়েজীদের ওই বন্ধু তার শ্যালক ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেন তোর ভগ্নিপতি (বায়েজীদ ) দরজা খুলছে না। এরপর ফারুক বাসার ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে ফ্ল্যাটে (বায়েজীদের) আসে। জলিলের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই তিনটি মরদেহ দেখতে পায়। এরপর কাফরুল থানায় খবর দেয়।
মিরপুর ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বায়েজীদ তার স্ত্রী ও সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর নিজের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন। ঋণের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
ডিএমপির মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার খায়রুল আমীন জানান, বুধবার রাতের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি জানান, ঐ বাসায় একাধিক চিরকুট পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বায়েজীদ ব্যবসা করতেন। কিন্তু নানা কারণে ব্যবসায় লস হচ্ছিল। এ অবস্থায় তার মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। আমরা ধারণা করছি বুধবার রাতের কোনো এক সময় স্ত্রী ও সন্তানকে খবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে হত্যা করে বায়েজীদ আত্মহত্যা করেন।
কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিমুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঐ বাসায় যাই আমরা। পরে বায়েজীদের ভাইয়ের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করি। তিনি বলেন, কোহিনূর বেগম অঞ্জলী ও ফারহানের লাশ বিছানার ওপরে পাওয়া গেছে। বায়েজীদের লাশ পাওয়া গেছে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলানো অবস্থায়। মৃত্যুর কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। সিআইডি ক্রাইম আলামত সংগ্রহ করছে। আমরা তদন্ত করছি।
