আড়াইহাজারে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০৭

বাড়ির উঠানে ৮টি বড়ো ট্যাংক। এই ট্যাংকগুলোতে মাছ চাষ করছেন দুই উদ্যোক্তা। তারা হলেন, জহিরুল হক ভূঁইয়া মিঠু ও তার ভগ্নিপতি  মোস্তাফিজুর রহমান। ধাতব ট্যাংকে মত্স্য চাষের এ বিশেষ পদ্ধতির নাম ‘বায়োফ্লক পদ্ধতি’ বলে জানালেন  মোস্তাফিজুর রহমান। নতুন ও অভিনব এ পদ্ধতিতে  মাছ চাষের জন্য আড়াইহাজার উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের বল্লভদী গ্রামটি এখন বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন কৌতূহলী লোকজন।

কথা হয় দুই মাছচাষির সঙ্গে। জহিরুল হক এমবিএ করেছেন। আর মুস্তাফিজুর রহমান উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন পদার্থবিদ্যায়। কর্মরত ছিলেন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে। কিন্তু মাছ চাষের নতুন প্রযুক্তি আর সম্ভাবনা তাদের চোখে বুনে দেয় অন্যরকম স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে ধরতেই চাকরি ছেড়ে মাঠে নেমেছেন তারা, বলা যায় উঠানে নেমেছেন।

তারা বলেন, ১০/১৫ দিন পরই আমরা প্রথমবারের মতো মাছ বিক্রি করতে যাচ্ছি। মাছগুলো বড়ো হয়েছে। দেখতে ভালো লাগে। বুকে অনেক আশা। প্রায় ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রথম দফায় আমাদের টার্গেট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি। প্রথম দফায় চালান পুরোপুরি উঠে আসবে না। কিন্তু অর্ধেকটা সফলভাবে উঠে আসলে আমাদের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। আল্লাহপাকের অশেষ রহমতে আমরা এগিয়ে যাব। প্রথমবার  আমরা চাষ করেছি  তেলাপিয়া, শিং, মাগুর, গুরুলশা ও পাঙাশ মাছ।

জানা গেছে, সাড়ে ১৭ হাজার লিটারের এক একটি পানির ট্যাংকে বেশ ভালো পরিমাণ মাছ রয়েছে। মুস্তাফিজুর রহমান হিসাব কষে বুঝিয়ে দেন সম্ভাব্য লাভের। পুকুর থেকে এ চৌবাচ্চা কেন লাভজনক তাও ভেঙে বলেন। এখানকার একেকটি ট্যাংকে ৬যে পরিমাণ পানি আছে, তা পুকুর হলে আধা শতাংশ জমির পুকুর হতো। এ আয়তনের পুকুরে মাছের পোনা ছাড়া যেত ১০০টি। আর সমআয়তনের এ ট্যাংকের একেকটিতে চাষ হচ্ছে প্রায় ৩০০০ পোনার। অর্থাত্, ৩০ গুণ বেশি পোনা চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। হিসাবের এ অঙ্কে তেমন হেরফের হবে না, সাফল্য ধরা দেবেই—এ আত্মপ্রত্যয় ফুটে উঠেছে তাদের চোখে-মুখে।

জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের বিষয়ে যুব উন্নয়ন ও মত্স্য অধিদপ্তরে আট মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এছাড়া থাইল্যান্ড ও ভারতেও কয়েকদিন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে খাবার খুব কম লাগে। নামমাত্র খাবারেই মাছ দ্রুত বড়ো হয়। মাছ বড়ো হতে তিন-চার মাস সময় লাগে। গ্রামের লোকজন তাকিয়ে আছে মোস্তাফিজুর ও জহিরুলের দিকে। তারা সফল হলে গ্রামের অনেকেই  বেকারত্ব ঘোচাতে মাছ চাষে এগিয়ে আসবে।

আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোহাগ হোসেন বলেন, এ দুজন সমাজের মধ্যে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা সরকারিভাবে সব সময় এদের পাশে থাকব। উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা আনিছুজ্জামানও বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তাদের  সব ধরনের সহযোগিতা করে যাব।