দূষণে বিপন্ন হালদাকে বাঁচাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:১২

চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাচীন নদী হালদাকে বাঁচাতে এখন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। এজন্য বিশেষজ্ঞরা সরকারি-বেসরকারি সকল মহলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, এই নদী বাঁচানো না গেলে চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের ভয়াবহ রকমের ক্ষতি হবে। কয়েক দশকের লাগাতার দূষণে হালদার বিপন্নতা দৃশ্যমান হয়েছে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান এবং হাটহাজারি উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এই নদী মদুনাঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। হাটহাজারি অংশেই প্রতি বছর এই নদীতে ঘটে বিশ্বের অন্যতম কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন। আর চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪০-৫০ লাখ মানুষের দৈনন্দিন সুপেয় খাবার পানির সিংহভাগ চট্টগ্রাম ওয়াসার মাধ্যমে এই নদী থেকেই সংগৃহীত হয় বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন ইত্তেফাককে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরাই এই নদীকে বিপন্নতা থেকে বাঁচাতে যাবতীয় তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছি। এই নদী বাঁচাতে হাটহাজারি উপজেলা পরিষদ কিছুই করছে না। এরই মধ্যে হালদার মাছ থেকে সংগৃহীত রেণু হ্যাচারিতে এনে উত্পাদিত ১ লাখ পোনামাছ নদীতে অবমুক্ত করার কাজ শুরু করেছি, বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে আটক করেছি নদী ধ্বংসের তত্পরতায় লিপ্ত থাকা দেড় ডজন ড্রেজার, অবৈধ মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জব্দ করেছি ১ লাখ ৭০ হাজার মিটার জাল। এই প্রক্রিয়া চলমান রাখতে হবে, তা না হলে হালদা বাঁচবে না।

বিশিষ্ট নদী গবেষক, চবি প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর, চবি হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির পরিচালক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া ইত্তেফাককে বলেন, হালদাকে বাঁচাতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই নদীতে হালদারই রেণুপোনা থেকে উত্পাদিত ১ লাখ কার্প জাতীয় মাছের পোনা নদীতে ছাড়া হচ্ছে। এছাড়া দুটি এনজিও যথাক্রমে পিকেএসএফ এবং আইডিএফ-এর সহযোগিতায় হাটহাজারি এলাকার ৪০ জন ডিম সংগ্রহকারী এবং জেলেকে সার্বক্ষণিক হালদা নদী পাহারায় নিযুক্ত করা হয়েছে ২ বছর আগে থেকে। ২০১৮ সালে হালদায় যে রেকর্ড পরিমাণ মাছের ডিম মিলেছে তা ছিল এই পাহারারই সুফল। এদিকে ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট চবিতে নদী গবেষণায় স্থাপন করা হয়েছে হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরি।

ড. কিবরিয়া আরো বলেন, বর্তমানে হালদা নদী রক্ষায় একযোগে কাজ করে চলেছে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন এবং হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরি। নদী দূষণ করায় পরিবেশ অধিদপ্তর হাটহাজারির ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুত্ কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। অনুরূপভাবে এশিয়ান পেপার মিলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উভয় প্রতিষ্ঠানকে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

ড. কিবরিয়া বলেন, সিডিএর অনন্যা আবাসিক এলাকায় বামনশাহি খালটি পুনঃখনন হয়েছে ঠিকই কিন্তু মূল খালের সঙ্গে যুক্ত হয়নি। ফলে এখান থেকে দূষণ হয়। অন্যদিকে ফটিকছড়ির ভূজপুরে স্থাপিত রাবার-ড্যামটি যে হালদার বড়ো ধরনের ক্ষতির কারণ, তা নিয়ে গবেষণা করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। এই গবেষণার ফলাফল তিন বছর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হলেও এ ব্যাপারে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার খবর আজও মিলেনি।