আবুল কাসেম ভুঁইয়া
আমাদের দেশের মাংস এবং দুধের চাহিদা মহিষ দিয়ে অনেকটা পূরণ সম্ভব। মহিষের খাবারের জন্য তেমন ব্যয় হয় না। সাধারণ খাবারের মাধ্যমে এদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে থাকে। দেশে ১৮ প্রজাতির মহিষ রয়েছে। গরুর তুলনায় মহিষের দৈহিক গঠন দ্রুত বৃদ্ধির কারণে মহিষ পালনে লাভ অনেক বেশি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মহিষ লালন পালন করে থাকে। বিশেষ করে ভারতে উন্নত প্রযুক্তির প্রজনন ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মহিষের দুধ উত্পাদন অনেকগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। ভারত মহিষের দুধ এবং মাংস নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। আমাদের দেশের জলবায়ু এবং পরিবেশ মহিষ পালনের জন্য খুবই উপযোগী। দেশের ডেইরি শিল্পের মতো মহিষের খামার বেশ লাভজনক এবং সম্ভাবনাময়। এজন্য উন্নত প্রযুক্তি, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন কৌশল ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োগের মাধ্যমে মহিষের জাত উন্নয়ন করতে হবে। দেশের সম্ভাবনাময় খাত মহিষের খামার গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এলক্ষ্যে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় উন্নতজাতের মহিষ পালন কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে ১৬৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
মহিষ পালনে আগ্রহ, খাদ্যের প্রাপ্ততা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে ৪৯ জেলার ২০০ উপজেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মহিষ পালনকারী ছয় হাজার খামারি, ৩৬০ জন কৃত্রিম প্রজনন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মহিষের জেনেটিক উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নতজাতের বাছুর উত্পাদনে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে প্রকল্পের আওতায়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান ২৫ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় গরুর তুলনায় মহিষের দৈহিক বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। আরেকটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো গরুর তুলনায় মহিষের মাংস এবং দুধে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক কম। যে কারণে সবাই মহিষের মাংস এবং দুধের স্বাদ নিতে পারবেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের গৃহীত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মহিষ পালনকারী প্রান্তিক খামারিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, দারিদ্র্যতা কমে যাবে। দেশের অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
