ধামইরহাটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যুবক খুন

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৫৮

নওগাঁর ধামইরহাটে এক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। তার নাম রুপলাল (১৭)। উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত বীরগ্রাম মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। খুন করার পর তার লাশ হত্যাকারীরা বাড়ির পাশের পানিতে ফেলে দিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন বৃহস্পতিবার তার লাশটি উদ্ধার করে।

থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে।

জানা গেছে, রুপলালের লাশ গত বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে ১০টার দিকে বীরগ্রাম খাড়ির ব্রিজের নিকট পড়ে থাকতে দেখে তার পরিবারকে খবর দেয় গ্রামবাসী। এ ব্যাপারে রুপলালের বাবা পঙ্গু অনিল হেমরম বলেন, প্রতিবেশী জলিল হেমরম ও প্রভু মুরমু রাতে জানান তার ছেলে রুপলালের লাশ ব্রিজের পাশে পড়ে আছে। তাৎক্ষণিক তার লাশটি পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। লাশের কপালে এবং মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের দাগ রয়েছে। কপালের অনেকখানি জায়গায় ধারালো কোন অস্ত্র দিয়ে কোপ মারার চিহ্ন রয়েছে।

এ ব্যাপারে রুপলালের চাচা স্বপন হেমরম জানান, 'বৃহস্পতিবার বিকালে একই গ্রামের জুয়েল সরেনের সঙ্গে উকিল হেমরমের শালিকা সাথী কিসস্কুর কপালে সিন্দুর পরানো হয়। এ ঘটনায় দুই পরিবারের মাঝে বউ নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র বিরোধ দেখা দেয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় দিকে উকিলের বাড়ির পাশে বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার যুবকের সঙ্গে রুপলালের কথাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাকে কে বা কারা দূরে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করে ব্রিজের নিচে পানিতে ফেলে দেয়।

এদিকে সিন্দুর পরানো বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা সাথী কিসস্কুর দুলাভাই উকিল হেমরম ও জুয়েল সরেন অস্বীকার করেন। সাথী কিসস্কুর বোন শিউলী সরেন এবং জুয়েলের বোন অনিতা বলেন, সিন্দুর পরানোর সঙ্গে খুনের কোন সম্পর্ক নেই। 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার আদিবাসীয় যুবককে থানায় ডেকে নেওয়া হয়েছে। তারা হলো, নিহত রপলালের চাচা স্বপন হেমরম, প্রভু হেমরম, পরিমল সরেন ও মিঠন সরেন।

এদিকে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে ওই পরিবার চোখে অন্ধকার দেখছে।

আরও পড়ুন: থানায় যোগদানের বর্ষপূর্তিতে বরের বেশে ওসি

ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশিদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার আদিবাসী যুবককে থানায় ডেকে নেওয়া হয়েছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিলো।

ইত্তেফাক/এএন