তথ্য স্থানান্তর ছাড়াও যে কাজগুলোতে প্রয়োজন পেনড্রাইভ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৪৮

মাহবুব শরীফ

 

কম্পিউটারের এই যুগে এসে যে ডিভাইসটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে সকলের মাঝে, তার নাম পেনড্রাইভ। একটা সময় পর্যন্ত পেনড্রাইভ ছিল এক ধরনের বিলাসিতার নাম। ফ্লপি আর অপটিক্যাল ডিস্কের সেই সময়ে মেগাবাইট পর্যায়ে ছিল পেনড্রাইভের স্টোরেজ ক্ষমতা। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই চিত্রটি বদলে গেছে পুরোটা। কয়েক গিগাবাইটের পেনড্রাইভ এখন তথ্যের দ্রুত স্থানান্তরে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পেনড্রাইভ তাই ডিজিটাল জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।

তথ্য স্থানান্তর পেনড্রাইভের মূল কাজ হলেও এই পেনড্রাইভকে কিন্তু বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যবহার করা যায়। ছোট ছোট কিছু অপশন ব্যবহার করেই আপনার পেনড্রাইভকে পরিণত করতে পারবেন নানান ধরনের কাজের কাজিতে। এই ধরনের কিছু কাজের কথা তুলে ধরা হলো এ লেখায়।

পেনড্রাইভই পিসি

যদি একটি পিসিকেই আপনার পকেটে করে নিয়ে ঘুরতে পারেন, তবে কেমন হয়? আজকাল স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট পিসি সে সুযোগ তো অনেকটাই করে দিয়েছে। কিন্তু তাতে কি পূর্ণাঙ্গ পিসি অপারেটিং সিস্টেমের স্বাদ মেলে? এই স্বাদটিই আপনাকে দিতে পারে আপনার পেনড্রাইভ! হ্যাঁ, বিষয়টি একটুও বাড়িয়ে বলা নয়। পেনড্রাইভের স্টোরেজ ২ থেকে ৮ গিগাবাইট হলেও পেনড্রাইভেই সেটআপ দিতে পারবেন পূর্ণাঙ্গ অপারেটিং সিস্টেম। সাধারণভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ বা অ্যাপল’র ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম সেটআপ না দেওয়া গেলেও লিনাক্সের বেশ কয়েকটি সংস্করণ সেটআপ দেওয়া যায় পেনড্রাইভে। উবুন্টু, ফেডোরা, মিন্টসহ লিনাক্সের আরও কয়েকটি সংস্করণ সরাসরি পেনড্রাইভে সেটআপ দিলে পেনড্রাইভটি নিজেই পরিণত হয় পিসিতে। এরপর যেকোনো সিপিইউ-এ এটি লাগালেই সেই পিসি রান করবে আপনার পেনড্রাইভের অপারেটিং সিস্টেমে। পিসিতে লিনাক্স যে গতিতে কাজ করে, ঠিক সে গতিতে এই পেনড্রাইভের ওএস কাজ না করলেও এটি আপনাকে যে গতি প্রদান করবে, তাতে ইন্টারনেট ব্যবহার বা রুটিন কাজগুলো করতে কোনো সমস্যা হবে না। পেনড্রাইভে ইতোমধ্যেই যারা অপারেটিং সিস্টেম সেটিং দিতে মনস্থির করেছেন, তাদের জন্য সুখবর, উইন্ডোজ ৮কে পেনড্রাইভে সেটআপ দিতে একটি বিশেষ সংস্করণ নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে খোদ মাইক্রোসফটেরই।

পেনড্রাইভেই প্রোগ্রাম

অপারেটিং সিস্টেমের মতো এমন অনেক প্রোগ্রামই রয়েছে, যেগুলোকে সরাসরি রান করানো যায় পেনড্রাইভ থেকে। মজিলার ওয়েব ব্রাউজার ফায়ারফক্স বা গুগল’র ওয়েব ব্রাউজার ক্রোম কিংবা ডিজিটাল ডিকশনারি ওয়ার্ডওয়েবের মতো অসংখ্য প্রোগ্রাম সরাসরি রান করানো যায় পেনড্রাইভ থেকেই। ফলে আপনার প্রয়োজনীয় কোনো প্রোগ্রাম আপনার পেনড্রাইভে ইন্সটল করা থাকলে অন্য কোনো পিসিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের কোনো ফাইল নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সমস্যা হবে না। সেই প্রোগ্রামটি তো পিসিতে ইন্সটল করা না থাকলেও হবে। আবার হয়ত আপনি এমন কোনো পিসিতে বসে কাজ করছেন, যেখানে পিসির অ্যাডমিন আপনি নন বা পিসিতে প্রোগ্রাম ইন্সটল করতে পারছেন না। এমন ক্ষেত্রেও সহায় হবে আপনার পেনড্রাইভের প্রোগ্রামটি। www.portableapps.com, www.portablefreeware.com বা www.pendriveapps.com সাইটগুলোতে গেলেই পেনড্রাইভ থেকে রান করা প্রোগ্রাম ও অ্যাপ্লিকেশনের বড় সংগ্রহ পেয়ে যাবেন। এখান থেকে বেছে নিন আপনার প্রয়োজন ও পছন্দের প্রোগ্রাম, আর ইন্সটল করে নিন আপনার পেনড্রাইভে।

জমা রাখুন ডিলিট করা ফাইল

পিসি থেকে কোনো ফাইল ডিলিট করা হলে সাধারণত সেগুলো জমা হয়ে থাকে রিসাইকেল বিনে। পেনড্রাইভ পিসিতে সংযুক্ত করে পেনড্রাইভ থেকে কোনো ফাইল ডিলিট করলে সেটিও জমা হয় পিসির রিসাইকেল বিনেই। তবে পেনড্রাইভটি পিসি থেকে সরিয়ে নিয়ে অন্য পিসিতে নিয়ে গেলে তো আর পেনড্রাইভ থেকে ডিলিট করা ফাইল উদ্ধার করা যাবে না। যে পিসির রিসাইকেল বিনে ফাইলটি রয়েছে, সেখান থেকেও আর উদ্ধার করা যাবে না সহজ উপায়ে। তাহলে পেনড্রাইভের ফাইল ভুলে ডিলিট করলে কি আর তা পুনরুদ্ধার করা যাবে না?

এই সমস্যারও সমাধান রয়েছে। রয়েছে পেনড্রাইভের জন্য নিজস্ব রিসাইকেল বিন। আর তাতে করে পেনড্রাইভ থেকে কোনো ফাইল ডিলিট করলে তা প্রথমে সেই পেনড্রাইভের বিন ফোল্ডারেই জমা হবে। পরে চাইলে সেখান থেকে সহজেই তথ্য উদ্ধার করতে পারবেন ঠিক পিসির রিসাইকেল বিনের মতোই। এই কাজে রয়েছে আইবিন নামের ছোট্ট একটি কার্যকরী টুলস যা ডাউনলোড করা যাবে sourceforge.net/projects/ibin সাইট থেকে। আইবিন মূলত পেনড্রাইভের জন্য বিশেষ রিসাইকেল বিন। এটি পেনড্রাইভে ইন্সটল করলে এরপর থেকে পেনড্রাইভের কোনো ফাইল ডিলিট করার সময় এটি একেবারে ডিলিট করা হবে নাকি আইবিনে রাখা হবে, এরকম অপশন দেওয়া হয়। আইবিনে কোনো ফাইল থাকলে পরে সেখান থেকেই তা যেকোনো সময় পুনরুদ্ধার করা যায়। অবশ্য আইবিনে থাকা ফাইলগুলোকে যেকোনো সময়েই ডিলিট করা যায় মাউসের একটি ক্লিকেই।

সুরক্ষিত থাকুক পেনড্রাইভ

বেশিরভাগ সময়েই এক পিসি থেকে অন্য পিসিতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম মূল মাধ্যম হচ্ছে পেনড্রাইভ। হয়ত আপনি নিজেই আপনার বন্ধুর কোনো পিসিতে পেনড্রাইভটি প্রবেশ করিয়েছেন। পরে দেখা গেল সেখান থেকেই কোনো একটি ভাইরাস পেনড্রাইভে করে চলে এসেছে আপনার পিসিতে। এ থেকে আপনার পেনড্রাইভকে সুরক্ষিত রাখতে আপনার পেনড্রাইভকে আপনি করে তুলতে পারেন রাইট প্রোটেকটেড। অর্থাত্, কোনো পিসিতে পেনড্রাইভ সংযুক্ত করার পর সেই পিসি সম্পর্কে পূর্ণ নিশ্চয়তা না পেলে আপনার পেনড্রাইভে কোনো কিছু লেখার সুযোগ থাকবে না। ইউএসবি রাইট প্রটেক্টর নামের ছোট্ট একটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করেই এই কাজটি করতে পারবেন। আর এর জন্য www.gaijin.at/dlusbwp.-php সাইট থেকে ডাউনলোড করে নিতে হবে প্রোগ্রামটি। এরপর প্রোগ্রামটি রান করালেই আপনি পেনড্রাইভকে রাইট প্রটেক্টেড হিসেবে তৈরি করে নিতে পারবেন।

পেনড্রাইভেও পাসওয়ার্ড

পেনড্রাইভের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে একে আপনি যেকোনো স্থানে বহন করে নিতে পারেন। আর এই সুবিধার ফলে আপনার পেনড্রাইভটি হয়ত আপনার পরিচিত অন্য কেউও ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু আপনার পেনড্রাইভে এমন কিছু তথ্য থাকতে পারে, যেগুলো আপনি কারও সাথে শেয়ার করতে চান না। তাহলে কী উপায়? উপায় হচ্ছে পেনড্রাইভের তথ্যগুলোকে কোনো ধরনের এনক্রিপশনের মাধ্যমে অন্যদের অ্যাকসেস থেকে নিরাপদ রাখা। রোহো মিনি ড্রাইভ পোর্টেবল নামের ছোট্ট একটি প্রোগ্রাম এই কাজে আপনাকে পূর্ণ সমর্থন প্রদান করবে। ছোট্ট সফটওয়্যারটি www.rohos.com/products/rohos-minidrive সাইট থেকে ডাউনলোড করে পেনড্রাইভে ইন্সটল করে নিলেই কাজ শেষ। প্রোগ্রামটি আপনার পেনড্রাইভের মধ্যেই হিডেন একটি পার্টিশন তৈরি করবে। যেসব ফাইল আপনি অন্যদের থেকে গোপনে রাখতে চান, সেগুলো এই পার্টিশনে থাকবে। হিডেন ছাড়াও এই অংশটি হবে এনক্রিপটেড এবং অবশ্যই পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত। গোটা পেনড্রাইভকেই যদি পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত রাখতে চান, সেক্ষেত্রে অবশ্য আপনার সহায়তায় আসবে ক্রিপটেইনার এলই। www.cypherix. com/cryptainer_le_download_center.htm সাইটে গিয়ে এটি ডাউনলোড করে নিলেই আপনার পেনড্রাইভটি যেকোনো পিসিতে সংযুক্ত করে খুলতে চাইলেই লাগবে পাসওয়ার্ড।