স্পোর্টস রিপোর্টার
চার বছর পর জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) খেলতে নেমে ৩০ রান করে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা মেট্রোর বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম দিনেই (গত বৃহস্পতিবার) আউট হয়েছিলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। যদিও তার ইনিংসটা ছিল ধৈর্যের প্রতিমূর্তি। শ্রীলঙ্কা সফরের পর বিশ্রাম নেওয়া তামিম ১০৫ বল খেলে উইকেট দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।
কিন্তু ম্যাচে ব্যাটসম্যান তামিমকে আটকে রাখতে বড়ো ভূমিকা ছিল বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানির। ইনিংসের ২১তম ওভারে বোলিংয়ে আসা আরাফাত সানি তামিমকে করা প্রথম ওভারেই চার হজম করেছিলেন। পরের ২২ বলে ৩ রানের বেশি দেননি।
এই স্পিনারের পরিকল্পনা ছিল তামিমকে আতঙ্কিত করে শট খেলতে বাধ্য করা। লেগ স্লিপ নিয়ে লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে অনেক বল করেছিলেন আরাফাত সানি। গতকাল দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
প্রথম দিনে উইকেট না পেলেও গতকাল বল হাতে সফলতা পেয়েছেন এই অভিজ্ঞ স্পিনার। ৮৭ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সবকটি উইকেটই নিয়েছেন গতকাল। যার মধ্যে চার বিরতির পর টানা চার উইকেট নিয়ে চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংস শেষ করে দিয়েছিলেন তিনি।
তামিমকে বোলিংয়ের বিষয়ে আরাফাত সানি গতকাল বলেছেন, ‘লংগার ভার্সনে কিন্তু রান করা সহজ নয়। আমি চাচ্ছিলাম তামিমকে আটকে রাখার জন্য। মূলত ওকে আতঙ্কিত করার জন্য। যেহেতু সে আমাদের বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান। তাই চেষ্টা করছিলাম যতটা সম্ভব ওকে আটকে রাখার। ও শট খেলুক, আমি নিজে থেকে দিব না। ও যেন নিজে থেকে চেষ্টা করে বল বানিয়ে স্কোর করে।’
ক্যারিয়ারে ১৯তম বার পাঁচ বা তার অধিক উইকেট পেলেন আরাফাত সানি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার উইকেট সংখ্যা এখন ২৯৭। বাঁহাতি এই স্পিনার বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, পাঁচ উইকেট পাওয়া সবসময়ই গর্বের ব্যাপার। তাই আমি অবশ্যই খুশি। প্ল্যানিং সবসময় থাকে উইকেট টু উইকেট বোলিং করা। চেষ্টা করেছি উইকেট টু উইকেট বোলিং করার জন্য। হয়তো তারই সফলতা এটি।’
চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ২৯০ রানে। দ্বিতীয় দিন শেষে ঢাকা মেট্রোর সংগ্রহ ২ উইকেটে ৬৬ রান। আজ তৃতীয় দিনে লিড নিতে চায় ঢাকা মেট্রো। গতকাল আরাফাত সানি বলেছেন, ‘লিড নেওয়ার চেষ্টা তো অবশ্যই করা হবে। যেহেতু চার দিনের ম্যাচ, কাল (আজ) তৃতীয় দিন শুরু হবে, দেখা যাক কি হয়।’
