সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন লাদেনকে ধরিয়ে দেওয়া ডাক্তার

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০৪

আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা পাকিস্তানি ডাক্তার শাকিল আফ্রিদি তার কারাদণ্ডের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। এবারই প্রথম আদালতে এই মামলার শুনানি হলো। আইনজীবীদের অনুরোধে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মামলা মুলতবি করা হয়েছে।

আফ্রিদি এর আগে দাবি করেছিলেন, তার বিচার প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ হচ্ছে না। ২০১২ সালে জেল থেকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা বাহিনী তাকে অপহরণ ও নির্যাতন করেছে। এক বছর পর তার আইনজীবীদের কাছে হাতে লেখা একটি চিঠি পাঠাতে সক্ষম হন তিনি, যেখানে দাবি করেন যে তিনি বিচারবঞ্চিত হচ্ছেন।

লাদেন মারা যাওয়ার ২০ দিন পর ২০১১ সালের ২৩ মে আফ্রিদিকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, আফ্রিদি তাদের হয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু লাদেনকে খুঁজে বের করার অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য আফ্রিদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো অভিযুক্ত করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হলেও, ২০১২ সালের মে মাসে যখন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়, তখন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-এ-ইসলামকে অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একটি আদালত তাকে শুরুতে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দিলেও পরে আবেদন সাপেক্ষে তা কমিয়ে ২৩ বছর করা হয়। খবর বিবিসি বাংলার।

যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিদিকে বীর মনে করা হলেও পাকিস্তানে অনেকেই তাকে বিশ্বাসঘাতক মনে করেন। আফ্রিদির কারণে বাধা ছাড়াই মার্কিন নেভি সিলরা পাকিস্তানের ভেতর প্রবেশ করে লাদেনকে হত্যা করে তার মৃতদেহ নিয়ে পাকিস্তানের বাইরে চলে যেতে সক্ষম হয়। এ ঘটনার পর অস্বস্তিকর একটি প্রশ্নে উঠে আসে, পাকিস্তানের শক্তিশালী সেনাবাহিনী দেশের অভ্যন্তরে লাদেনের অবস্থানের বিষয়টি আগে থেকে জানত কি না। হোয়াইট হাউজের তত্কালীন সন্ত্রাস দমন বিভাগের প্রধান জন ব্রেনান মন্তব্য করেছিলেন, লাদেন পাকিস্তানে কোনো ‘সহায়তা ছাড়াই বসবাস করছিলেন, তা ধারণাতীত’।