উপকথা

বড়ো আর ছোটো

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২৪

মুস্তাফা মাসুদ

 

বড়ো এক বনের শেষ মাথায় একটা বটগাছ। বিশাল তার গুঁড়ি। গাছের মূল শেকড় মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত গিয়েছে। বড়ো বড়ো ডালপালা। এজন্য ভারি অহংকার তার। সেই বটগাছের নিচেই ছিল একটা ছোট্ট গাছ। চিকন, টিনটিনে পটকা। জেল্ল­­া-সুরতও নেই। মাটি থেকে রস টেনে কোনোভাবে বেঁচে আছে ছোট গাছটি।

একদিন বটগাছ ডেকে কয় ছোটো গাছকে—পিচ্চি ভাইডি, কেমন আছ? তা বলো তো, তোমার শিকড় মাটির খুব নিচে যায়নি কেন আর তোমার মাথাও বা আমার মতো উঁচুতে ওঠেনি কেন?

বটগাছের কথা শুনে ছোটো গাছটি বলে—আমার এ-ই ভালো। এভাবেই আমি সুখে আছি। বেশি বড়ো বা লম্বা হওয়ার ঝামেলা অনেক।

পিচ্চির মুখে এমন পণ্ডিতের মতো কথা শুনে বড়োর খুব রাগ হয়। সে আর কোনো কথা কয় না ছোটোর সঙ্গে। রাগে মুখ ফিরিয়ে নেয় অন্যদিকে।

কিছুদিন পর, বোশেখ মাসের এক বিকেল। উত্তর দিকের আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। আজ তুমুল ঝড় হবে বলেই মনে হচ্ছে। বটগাছটা মুচকি মুচকি হেসে বলে—আসুক ঝড়। আসুক তুফান। আমার ভয় কিসের? আমার শিকড় মাটির অনেক নিচে পর্যন্ত গিয়েছে। ঝড়ের সাধ্য কি আমার কোনো ক্ষতি করে? সে আগের রাগ ভুলে ছোটো গাছকে ডেকে বলে—এই যে ছোটো পণ্ডিত, ঝড় এল বলে। সাবধানে থেকো। তুমি চিত্পটাং হয়ে পড়লে আমার দেখতে খুব খারাপ লাগবে। হাজার হোক, তুমি আমার এত কাছের...

বটগাছের কথা শেষ না হতেই তুমুল ঝড় এসে আছড়ে পড়ে তার ওপরে। তা দেখে ছোটো গাছ জোরে চেঁচিয়ে বলে—বড়োভাই, আগে নিজের ভাবনা ভাবো।...

দেখতে দেখতে আরো জোরে ঝড় আঘাত করে বটগাছকে। আঘাতে আঘাতে কিছুক্ষণের মধেই সে গোড়াসহ উপড়ে পড়ে।

আর আমাদের ছোটো গাছটির কী হলো? দেখা গেল, ঝড়ের ঝাপটায় সে একটু নুয়ে পড়েছিল ঠিকই। কিন্তু ভাঙেনি। উপড়েও পড়েনি।

ঝড়শেষে ঠান্ডা বাতাসের ছোঁয়া পেয়ে ছোটো গাছটি আবার গা-ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। চারদিক একেবারে ফাঁকা-ফাঁকা। বিকেলের সূর্যের ঝিকিমিকি আলো এসে পড়ছে তার গায়ের ওপর। তাতে তার ভারি আরাম লাগে। 

ঈশপের গল্প অনুসরণে