যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সিসিইউ

এক যুগেও মিলল না জনবল ধার করা চিকিত্সকে চলছে সেবা

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২৯

যাত্রা শুরুর একযুগ পেরিয়ে গেছে। শত শত মানুষ চিকিত্সাও নিচ্ছেন। কিন্তু একজন জনবলও নেই এখানে। ধার করা চিকিত্সক-নার্স-কর্মচারী দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। এ অবস্থা যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ‘করোনারি কেয়ার ইউনিট’ (সিসিইউ)-এর। কবে এই ইউনিট জনবল আর চিকিত্সা সরঞ্জাম পাবে, নির্দিষ্ট করে কর্তৃপক্ষ বলতে পারেন না।

সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের যাত্রা শুরু হয়। অবশ্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছিল ২০০৯ সালে। ২৮ শয্যার করোনারিতে দুইটি মুক্তিযোদ্ধা, ১৫টি পুরুষ, পাঁচটি নারী ও ছয়টি সিসিইউ শয্যা রয়েছে। এজন্য দুই জন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, চার জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, আট জন জরুরি চিকিত্সা কর্মকর্তা থাকার কথা। কিন্তু সেখানে নিজস্ব কোনো চিকিত্সকই নেই। বিকল্প ব্যবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও যশোর মেডিক্যাল কলেজের চিকিত্সক, নার্সসহ অন্যান্য জনবল দিয়ে করোনারি কেয়ার ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে এখানে যশোর মেডিক্যাল কলেজের দুই জন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের দুই জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও পাঁচ জন চিকিত্সা কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

যশোর শহরতলীর বাহাদুরপুরের মুক্তিযোদ্ধা আকরামুজ্জামান (৭০) হার্টের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন ৯ অক্টোবর। মুক্তিযোদ্ধা কক্ষের মেঝেতেই চলছে তার চিকিত্সা।

তার বৌমা মিতু বেগম জানান, রোগীর এক্সরে, ইসিজি ও রক্তের পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হয়েছে। আর ডিজিটাল এক্সরে হাসপাতালে করা হলেও এর জন্য গুনতে হয়েছে ২০০ টাকা।

সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার মাগুরা গ্রামের কল্পনা বসু (৬০) বৃহস্পতিবার ভর্তি হয়ে জায়গা পেয়েছেন মেঝেতে।

তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌর ঘোষ বলেন, হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কি না তা জানতে ট্রোপিনিন-১ এবং ডায়াবেটিকের অবস্থা জানতে আরবিএস পরীক্ষার জন্য বাইরের ক্লিনিকের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিত্সা সরঞ্জামের মধ্যে শুধু দুইটি ইসিজি মেশিন ও অক্সিজেন ছাড়া কিছুই নেই। ইটিটি মেশিন, কার্ডিয়াক যন্ত্র, এনজিওগ্রাম মেশিনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন নষ্ট হয়ে রয়েছে। রোগীদের প্রায় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করতে হচ্ছে। এজন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে রোগীদের। করোনারিতে ৮০ টাকায় ইসিজি করা সম্ভব। সেই পরীক্ষা বাইরের ক্লিনিকে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা লাগে। হাসপাতালের ২৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ইটিটির ফি বাইরে থেকে করতে লাগে ১৫০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত। ইকো কার্ডিয়াক পরীক্ষা হাসপাতালে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা হলেও বাইরের ক্লিনিকে সেই ফি ১৭০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এখানে নেই কোনো প্যাথলজির সুবিধা।

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটে ঠিকমতো সেবা দিতে পারছি না। করোনারি ইউনিটের জন্য ৭৯টি পদ সৃষ্টির তালিকা পাঠিয়েছিলাম মন্ত্রণালয়ে। এর মধ্যে ৪৬টি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু আজও সৃজন হয়নি। মূল হাসপাতাল থেকে জনবল নিয়ে সিসিইউ চালু রাখায় হাসপাতালের চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমি যোগদানের পর গত দেড় বছরে জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটের কথা উল্লেখ করে ১০-১২টি চিঠি লিখেছি মন্ত্রণালয়ে। সচিবের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছি। কিন্তু কাজ হয়নি কিছুই। তবে সমাধান হওয়ার মতো একটি পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা গেছে। আশা নিয়েই চলছি।’