আশ্বিনের শেষে শীতের হাতছানির এই সময়টায় সিলেটের দর্শনীয় স্থানগুলোতে প্রকৃতি যেন তার সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে। নীল আকাশের নিচে পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান, বন-বনানী আর বিশাল হাওর দেখতে ভিড় করছে সৌন্দর্যপিপাসুরা।
আশ্বিনের বিকালে কাশবনের সে কি মনোহর দৃশ্য! আর শীতের সকালে সবুজ প্রান্তরে শিশির বিন্দুকে মনে হয় হাজার মুক্তার মেলা। পাখির কলতান, স্ফটিকস্বচ্ছ পাহাড়ি নদীতে সাদা পাথরের ছড়াছড়ি পর্যটকদের মোহিত করে। টাঙ্গুয়ার হাওরে জ্যোত্স্না, আর রাতারগুল, মায়াবনের সৌন্দর্য ভিন্ন মাত্রার আকর্ষণ তৈরি করেছে পর্যটকদের মধ্যে। এরই মধ্যে সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর আর সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিকি বিলের লাল পদ্ম দেখতে যেন ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের।
সিলেট বিভাগের চার জেলাতেই ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য পর্যটন স্পট। সরকারি ছুটির সময় সিলেটের হোটেল-মোটেলে ঠাঁই পাওয়াই মুশকিল। প্রকৃতির অপরূপ এসব দৃশ্য দেখতে ছুটে আসা পর্যটকদের সবারই বলতে গেলে এক কথা—স্পট সুন্দর। কিন্তু রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কারণে যাতায়াতে খুব ভোগান্তি।
ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেজুতি কয়েক দিন আগে মা-বাবাকে নিয়ে এসেছিলেন সিলেটের রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও জাফলং ঘুরতে। সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে তারা মুগ্ধ। কিন্তু রাস্তাঘাটের দুরবস্থায় ত্যক্ত-বিরক্ত। একই মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মণিসহ তাদের অভিভাবকরাও। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তা ও মৃত্তিকার একই অভিযোগ। সপরিবারে আসা দুই গৃহবধূ বিথী ও কল্পনা জানালেন, ‘পর্যটকবান্ধব কোনো অবকাঠামো নেই। তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এসব দেখার কি কেউ নেই’।
পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সিলেটের হযরত শাহজালাল (র) ও হযরত শাহপরান (র) এর মাজারসহ ৩৬০ আউলিয়ার মাজার। তাই সিলেটকে আধ্যাত্মিক রাজধানীও বলা হয়ে থাকে। সিলেটে জন্ম নিয়েছেন অসংখ্য পীর, সাধক, মরমী কবি। হাসন রাজা, শ্রীচৈতন্য, আরকুম শাহ, দুর্বিন শাহসহ আউল-বাউলসহ অসংখ্য কীর্তিমান পুরুষ জন্ম নিয়েছেন সিলেটে। দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে—মাধবকুণ্ড, হামহাম জলপ্রপাত। খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ের মনোলোভা দৃশ্য, চেরাপুঞ্জির নিচে ভোলাগঞ্জে পাথরের স্তূপ, খাদিম ফরেস্ট, টাঙ্গুয়া, হাকালুকির হাওর, টেকের ঘাট, রূপের নদী যাদুকাটা, বারাইক্কা টিলা, শ্রীমঙ্গলে টি-রিসোর্ট, বিছনাকান্দি ও রাতারগুল জলাবন ও মায়াবন, পান্তুমাই ঝরনা, মাধবপুর লেক, গোলাপগঞ্জে শ্রীচৈতন্যের মন্দির, সিলেট ও সুনামগঞ্জে হাসন রাজার মিউজিয়াম, ডলুরা শহিদ মিনার, টিলাগড় ইকোপার্ক, ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজ,আলী আমজাদের ঘড়ি, ভিআইপি সার্কিট হাউজ, জকিগঞ্জে অমলসিদ, লালাখাল। এছাড়াও রয়েছে নাজিমগড় রিসোর্ট, জাকারিয়া সিটি, ড্রিম ল্যান্ড পার্ক, মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সাতছড়ি রেইন ফরেস্টে আসছে পর্যটকরা।
ঝুলে আছে ২৫ লাখ টাকার বিশ্রামাগার নির্মাণ প্রকল্প
গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন বিছনাকান্দিতে পাহাড়ি ঝরনা থেকে সৃষ্ট পাথুরে নদী এলাকা সারা বছর পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে। এখানে পর্যটকদের জন্য জেলা পরিষদের ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৬ সালে। কিন্তু স্থান নির্বাচন চূড়ান্ত হয়নি বলে আজও বিষয়টি ঝুলে আছে। এদিকে, এ অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষেরও (বেজা) পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্র জানায়, এ লক্ষ্যে কাজ চলছে।
