বিশ্বনাথে পুনঃখনন হচ্ছে খাজাঞ্চী-মাকুন্দা নদী

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩১

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খাজাঞ্চী-মাকুন্দা নদী পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ নদীর ২৮ কিলোমিটার অংশে শিগিগরই শুরু হবে খনন কাজ। পুনঃখনন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলতি মাসেই খননকাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী।

সুরমা নদীর একটি শাখা খাজাঞ্চী ও মাকুন্দা নদী। সিলেট সদর উপজেলার পশ্চিম সীমান্ত ও বিশ্বনাথ উপজেলার উত্তরপূর্ব সীমান্ত লামাকাজী ইউনিয়নের তিলকপুর এলাকায় সুরমা নদী থেকে খাজাঞ্চী নদী ও মাকুন্দা নদীর উত্পত্তি হয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীতে মিলিত হয়েছে। উপজেলার তিলকপুর থেকে উত্পত্তি হয়ে খাজাঞ্চীগাঁও, ফুলচণ্ডি, রাজাগঞ্জবাজার ও আশুগঞ্জবাজার হয়ে পুরান রাজগঞ্জবাজার পর্যন্ত প্রবাহিত নদীটি ‘খাজাঞ্চী নদী’ হিসেবে এবং পুরান রাজগঞ্জবাজার থেকে বৈরাগীবাজার, সিংগেরকাছবাজার ও টুকেরবাজার হয়ে জগন্নাথপুরের রসুলগঞ্জবাজারের পাশ দিয়ে কুশিয়ারা নদীতে মিলিত নদীর অপর অংশটি ‘মাকুন্দা নদী’ হিসেবে খ্যাত।

এককালে খরস্রোতা এই নদী প্রচণ্ড স্রোতস্বিনী ছিল। নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই নদী। চলাচল করতো লঞ্চ, স্টিমার ও পাল তোলা নৌকা। কিন্তু ক্রমশ পলিতে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় কালের আবর্তে তা আজ হারিয়ে গেছে। পানির অভাবে দুই পাড়ে সেচকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নদীতে পানি না থাকায় মাছও নেই। ফলে মাছের ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য পরিবার দুর্ভোগে পড়ে। বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এলাকার প্রকৃতি ও পরিবেশ। বর্তমানে এই নদীটি ‘মরা গাঙ’ হিসেবে পরিচিত। ভরাট হয়ে গেছে প্রায় পুরোটাই। নদীর অধিকাংশ এলাকায় চাষাবাদ, খেলার মাঠ ও গো-চারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় প্রতি বছর বর্ষায় পাহাড়ি ঢল এসেই সরাসরি পার্শ্ববর্তী বাড়িঘরে আঘাত হানে। ভাসিয়ে নিয়ে যায় ক্ষেতের ফসল, বাড়িঘর ও গাছপালা। এই অবস্থা থেকে বাঁচতে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নদী পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। নদী পুনঃখননের প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে মাছের প্রজনন বাড়বে, শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে ও বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধারণ করবে। এতে পাহাড়ি ঢলের আঘাত থেকে রক্ষা পাবে বাড়িঘর।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দুটি ভাগে খাজাঞ্চী ও মাকুন্দা নদী পুনঃখনন করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। নদীর ২৮ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীর উত্সমুখ তিলকপুর থেকে নদীর (১ম অংশ) ১৫ কিলোমিটার খননের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএএসআই ইসরাত এন্টারপ্রাইজ জেবি এবং ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীর পরবর্তী (২য় অংশ) ১৩ কিলোমিটার খননের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স পূবালি এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে নদীর সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম অংশে মোট ৪ লাখ ৬৫ হাজার ঘনমিটার এবং দ্বিতীয় অংশে ৩ লাখ ২৮ হাজার ঘন মিটার মাটি কাটা হবে। খননকৃত মাটি দিয়ে নদীর তীর সংরক্ষণ এবং খননকৃত মাটি বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাতে নদীতে না পড়ে সেজন্য ঘাস লাগানোরও প্রকল্পে নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া যেখানে নদীর তলদেশ খনন করা হবে না, সে স্থান হিসাবের আওতায় আসবে না। গত মার্চ মাসে খননকাজ শুরু করার নির্দেশনা থাকলেও এখনো তা শুরু হয়নি।

তবে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুজ্জামান বলেন, বন্যার      কারণে প্রকল্পের সময় মতো পুনঃখনন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। চলতি মাসেই খনন কাজ শুরু  হবে করা হবে।