দিনাজপুরে মাদকের বিস্তার অতিষ্ঠ অভিভাবক

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩৫

দিনাজপুরের বিরামপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় দিন দিন মাদকাসক্ত সন্তানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ অভিভাবকদের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করছেন। অনেকেই মানসম্মানের কথা ভেবে নীরবে মাদকাসক্ত সন্তানের অত্যাচার সহ্য করছেন। তারা সামাজিক অসম্মানের  ভয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলতে চান না।

ঐ চার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানা সূত্রমতে বিরামপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাটে প্রতি সপ্তাহে গড়ে দুই থেকে তিন জন অভিভাবক তাদের মাদকাসক্ত সন্তানদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আইনের আওতায় নেওয়ার আবেদন জানান।

দিনাজপুরের মাদক নিরাময় কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরে মোট চারটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলোতে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ১০০ জন মাদকাসক্ত ভর্তি হয়। অধিকাংশেরই বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এখন মাদকাসক্তের মাত্রা ২০ থেকে ৩০ ভাগ বেড়েছে।

বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে মাদক একটি ভয়ানক ব্যাধি, তাই মাদকাসক্তদের এই পথ থেকে ফিরাতে প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে। ছেলে কোন কোন বন্ধুদের সঙ্গে মিশছে, সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে কতক্ষণ সময় ব্যয় করছে, এটা পরিবারের খেয়াল রাখতে হবে।           

বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ সিনিয়র সার্কেল এএসপি মিথুন সরকার বলেন, ‘সন্তানদের মাদকাসক্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ার অন্যতম দুটি বড়ো কারণ—পারিবারিক বন্ধন আলগা হয়ে যাওয়া এবং অভিভাবকদের বড়ো অংশেরই প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতা। পারিবারিক বন্ধন আলগা হয়ে যাওয়ার কারণে বাবা-মা ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা সন্তানদের শাসন করতে পারছেন না।’

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুর রহমান জানান, তিনি যোগদানের পর থেকেই গড়ে প্রতি সপ্তাহে দুই জন অভিভাবক তাদের মাদকাসক্ত সন্তানদের হাতে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আসেন। সেই সঙ্গে মাদকাসক্ত সন্তানকে আটক করে কারাগারে পাঠানোর জোর অনুরোধ করেন। ইতিপূর্বে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রেখে কোনো ফলাফল না পেয়ে বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের আইনের আওতায় নিয়ে যাওয়ার আবেদন করছেন তারা।