দেশে কন্যাশিশুর অগ্রযাত্রায় প্রধান বাধা বাল্যবিবাহ। ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এই বাধা অতিক্রম করতে হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে কন্যাশিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে পরিবার থেকে কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্য নিরসনে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।
গতকাল শুক্রবার সকালে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম যৌথভাকে এই সভার আয়োজন করে। দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পর্যন্ত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে শিশুদের একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়। এ বছর কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘কন্যাশিশুর অগ্রযাত্রা, দেশের জন্য নতুন মাত্রা’।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর পদক্ষেপ হলো কন্যাশিশুর জন্য বিনিয়োগ। সরকার কন্যাশিশুর অগ্রযাত্রার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। কন্যাশিশুর অগ্রযাত্রায় বাল্যবিবাহ একটি প্রধান বাধা। কন্যাশিশুর সুরক্ষা ভবিষ্যত্ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব কামরুন নাহার বলেন, কন্যাশিশুদের জন্য আলাদা একটি দিবস রাখার উদ্দেশ্য হলো পরিবার থেকে বৈষম্য নিরসন করা। কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্যের প্রধান কারণগুলো হলো দরিদ্রতা, বাল্যবিবাহ এবং অসচেতন সমাজব্যবস্থা। এসব কারণ দূর করার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা নিজেদের কন্যাকে ভালো কাজে ‘হ্যাঁ’ বলতে এবং খারাপ কাজে-‘না’ বলতে শেখার সাহস জোগান।
শিশু একাডেমির মহাপরিচালক জ্যোতি লাল কুরী বলেন, মেয়েদের সম্পর্কে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে, তাহলে কন্যাশিশুদের জন্য আলাদা করে কোনো দিবস পালন করার প্রয়োজন পড়বে না।
কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি বলেন, ‘মেয়েরা প্রতিদিনই রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে ছড়িয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতীয় শিশু নীতি প্রণয়ন করেছিলেন। আজকের দিনটি আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস হিসাবে ঘোষিত হওয়ার পেছনে বাংলাদেশের একটি বিরাট অবদান রয়েছে। এটি গর্ব করার মতো একটি বিষয়।’ আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য দেন মহিলা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বদরুননেছা, শিশু একাডেমির চেয়ারপারসন লাকী ইনাম, কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহসভাপতি শাহীন আক্তার ডলি প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলদেশ শিশু একাডেমির সদস্য সাদিয়া এবং দীপান্বিতা।
