ডুবে আছে শীতকালীন সবজি ও সৈকতের সড়ক

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৫৫

 

কক্সবাজারে অকস্মাত্ বৃষ্টি

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার

কক্সবাজারে গত কয়েকদিন ধরে অকস্মাত্ বর্ষণ চলছে। থেমে থেমে চলা হালকা-মাঝারি বর্ষণে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পানি জমেছে। নিচু খেতে পানি জমে ক্ষতির কবলে পড়েছে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা। একইভাবে সৈকতের সী-গাল সড়কের ওপর পানি জমে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পর্যটক ও স্থানীয়দের। কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়ার সবজি চাষি জয়নাল আবেদিন, বাংলাবাজার এলাকার এহছানুল ও রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির আব্দুল হক বলেন, কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টির পানিতে মরিচ, বেগুন, পটল, করলাসহ শীতকালীন সবজি খেতের মাঝখানে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়েছে। মরে যাচ্ছে সবজির গাছ। এভাবে পানি জমে থাকলে লাভের চেয়ে ক্ষতি হবে। একইভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শীতের আগাম সবজি  মরিচ, পটল, বেগুন, মুলা, কপি, কন্দ পিঁয়াজ, টম্যাটো, লালশাকসহ  বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছে। খেতে পানি জমে থাকায়  ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষিরা।

রামুর রাজারকুলের চাষি রমজান আলী জানান, বাড়তি লাভের আশায় প্রতিবছরই আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করা হয়। এবারও চাষ হয়েছে। কিন্তু গত কয়েকদিন বৈরী আবহাওয়ায় চারাগাছ নুয়ে পড়ে মারা যাচ্ছে। এবার লাভের আশা ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এছাড়াও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালীসহ অন্য নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চর এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটি হলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। একই অবস্থা কলাতলীর সড়ক-উপসড়কেও। সবচেয়ে ভোগান্তি সৈকতের সী-গাল সড়কে।

পর্যটন ব্যবসায়ী সোহেল আরমান বলেন, সৈকতের সী-গাল সড়কটি আগে থেকেই খানা-খন্দে ভরে আছে। পানি চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় একটু বৃষ্টিতে পানি জমে সড়কটি জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। ফলে জনচলাচল দূরে থাক, যানবাহন চলাচলেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এতে পর্যটকসহ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে।

কক্সবাজারের পত্রিকা এজেন্ট খবর বিতানের স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ হাসিম বলেন, সী-গালসহ হোটেল-মোটেল জোনের স্টার হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলে পত্রিকা সরবরাহ দিতে এ সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। পায়ে হাঁটার সুযোগ না থাকায় প্রতিদিন বেশি দামে ভাড়ায় গাড়ি নিয়ে পত্রিকা সরবরাহ দিতে হচ্ছে। পর্যটন এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এমন অবস্থায় অনেকে সড়কটির ব্যবহার এড়িয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রমতে, সমুদ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করায় কক্সবাজারসহ দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আরো কয়েকদিন নাগাদ নিম্নচাপ থাকতে পারে। নিম্নচাপ কেটে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আশা করেন তারা।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আ খ ম শাহারিয়ার বলেন, মাঝারি বৃষ্টিতেও খেত স্যাঁতসেঁতে হওয়ায় খেতে চারার গোড়াপচা রোগের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। রোদ হলেই এই সংকট কেটে যাবে। সংকট থেকে গেলে সেই ক্ষেত্রে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের জন্য বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে উঁচু জমি নির্বাচনের পরামর্শ দেন।

কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পাশ দিয়ে একটি সড়ক করা হচ্ছে। এ কারণে সী-গাল সড়কের পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কটি নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, শিগগিরই এ দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করছি।